সাধারণ মানুষকে বীমায় আগ্রহী করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

সোনালী ডেস্ক: বীমার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বীমা করতে সাধারণ মানুষ যেন আগ্রহী হয় সেই তাগিদ দেন তিনি। গতকাল রোববার দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় বীমা দিবস ২০২০ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
‘বীমা দিবসে শপথ করি, উন্নত দেশ গড়ি’-এ প্রতিপাদ্য নিয়ে রোববার দেশে প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে জাতীয় বীমা দিবস। অনুষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে দাবি নিষ্পত্তিসহ বীমার সব ক্ষেত্রে যেন উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় সেই আহŸানও জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বীমা কোম্পানির মাধ্যমে আরও যেন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায় নেই তাগিদও দেন।
বীমার সকল কার্যক্রম ডিজিলাইজড করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বীমার সকল হিসাব-নিকাশ অটোমেশন পদ্ধতিতে আনলে মানুষের আস্থা বাড়বে। শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সে হিসেবে আমরা বীমা পরিবারের একজন সদস্য। যেহেতু পাকিস্তানি শাসকরা বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতি করতে দিতেন না, সে কারণে তিনি আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ইন্স্যুরেন্স কন্ট্রোলার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি প্রচারণা চালাতে সারাদেশব্যাপী তাকে ঘুরতে হয়। সে সুবাদে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বঙ্গবন্ধু বীমার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন বলেই এ বিষয়ে তিনি ১৯৭৩ সালে আইন প্রণয়ন করেছিলেন। এছাড়া তিনি ইন্স্যুরেন্স অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, বীমাার মাধ্যমে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে। বীমা অ্যাকাডেমিতে লেখাপড়া করে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি হতে পারে। বীমার প্রসারের জন্য আমরা যুগোপযোগী আইন করেছি। আমরা ‘বীমা আইন ২০১০’, ‘বীমা উন্নয়ন আইন ২০১০’ ও ‘বীমা নীতিমালা ২০১৪’ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বীমাকে আমরা জনগণের দোরগোড়ায় অর্থাৎ গ্রাম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছি। শিক্ষাবীমা, শস্যবীমা, স্বাস্থ্যবীমা, গার্মেন্টস শ্রমিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বীমা করা যেতে পারে। যে বীমার মাধ্যমে দুসময়ে গরিব মানুষগুলো বিরাট সাফল্য পাবে।

শর্টলিংকঃ