সাগর-রুনি হত্যায় দুজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে র‌্যাব

সোনালী ডেস্ক: অসংখ্যবার তারিখ পেছানোর পর অবশেষে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
আলোচিত এই হত্যাকাÐের আট বছরেরও বেশি সময় পর দেয়া প্রতিবেদনে র‌্যাব জানিয়েছে, দুজন অপরিচিত পুরুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে এই হত্যাকাÐে। তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি সংস্থাটি। গতকাল সোমবার আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্তের অগ্রগতির প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেয় র‌্যাব। বিষয়টি র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইং থেকে গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করা হলেও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রতিবেদনের কোনো কপি হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনটি অ্যাটর্নি কার্যালয়ে আসার পর সেটি বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রæয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় রুনির ভাই বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন।
প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন শেরে বাংলা নগর থানার এক এসআই। পরে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
র‌্যাব সূত্র জানায়, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের খন্দকার শফিকুল আলম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গতকাল প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় দুজন অপরিচিত পুরুষ জড়িত। সাগরের হাতে বাঁধা চাদর এবং রুনির টি-শার্টে ওই দুই পুরুষের ডিএনএ’র প্রমাণ মিলেছে। এতে আরও বলা হয়েছে, এ মামলায় তানভীরের অবস্থা রহস্যজনক। এ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি (বিচারিক আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে) দেয়া যুক্তিযুক্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো ডিএনএ নমুনার সঙ্গে অপরিচিত দুই ব্যক্তির ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে।
এর আগে গত ১৪ নভেম্বর এ মামলার সন্দেহভাজন আসামি তানভীরের জামিনের বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালত তার রায়ে বলেছে, সামগ্রিক ঘটনা ও আইনগত অবস্থা বিবেচনায় সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত নি¤œ আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে সন্দেহভাজন আসামি তানভীর রহমানকে অব্যাহতি দেয়া হলো। একইসঙ্গে সামগ্রিক অবস্থা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগামী ৪ মার্চ বা তার পূর্বে এ মামলার তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা এবং অপরাধের সাথে বর্তমান আসামি তানভীরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন হলফনামাসহ দাখিলের নির্দেশ দেয় আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব এ মামলার তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিল করল।

শর্টলিংকঃ