সাংবাদিক পরিচয়ে ভাই-বোনের একসাথে চাঁদাবাজি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার সময় হাতেনাতে ভাই-বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিছু দিন ধরে তারা রাজশাহী মহানগরী ছাড়াও প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে গিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। সোমবার রাতে রাজশাহীর কাটাখালি থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার সকালে পাঠানো হয়েছে কারাগারে।
গ্রেপ্তার দুইজন হলেন, নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আতিকুর রহমান (২৭) ও তার বড় বোন মমতাজ বেগম ওরফে সাথী। রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম ১২ রাস্তার মোড়ে বাড়ি ভাড়া করে তারা থাকেন। আতিকুর ‘বাংলাদেশ সমাচার’ নামের একটি পত্রিকার রাজশাহী প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। আর সাথী পরিচয় দেন আনন্দ টিভির রাজশাহী প্রতিনিধি হিসেবে।
কাটাখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিলৱুর রহমান জানান, আতিকুর ও সাথীকে গ্রেপ্তারের পর তিনি ভয়াবহ তথ্য জানতে পেরেছেন। এক সময় রাণীনগরে সাথীর জঙ্গিগোষ্ঠী সর্বহারার সঙ্গে সংশিৱষ্টতা ছিলো। তারপর তিনি ঢাকায় যান। সেখানে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে বেড়াতেন। পরে ঢাকা থেকে চলে আসেন রাজশাহীতে। এখানে এসেও তিনি একইভাবে চাঁদাবাজি করছিলেন।
সাথীর নামে চাঁদাবাজির মোট পাঁচটি মামলা আছে বিভিন্ন থানায়। এর মধ্যে নওগাঁর পোরশা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। সাথীর স্বামী রাশেদুজ্জামানও একজন অপরাধী। তার বির্বদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা আছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে। আর সাথীর ভাই আতিকুরের বির্বদ্ধেও রয়েছে চাঁদাবাজির পাঁচটি মামলা। তারা নিরীহ মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির সঙ্গেই জড়িত।
ওসি জানান, ১০-১৫ দিন আগে নগরীর কাটাখালি এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার আসাদুল ইসলামের কার্যালয়ে গিয়ে আতিকুর ও সাথী তাকে বলেন, আসাদুল নাকি বাল্যবিবাহ দেন। এ ব্যাপারে তাদের কাছে অভিযোগ আছে। তারা সংবাদ প্রকাশ করবেন। সংবাদ ঠেকাতে হলে টাকা দিতে হবে। নিকাহ রেজিস্ট্রার ভয়ে তাদের ৭০০ টাকা দেন। এরপর গত সোমবার সকালে সাথী ও আতিকুর আবারও তার কাছে চাঁদা নিতে যান। আসাদুল তখন জানান, তার কাছে টাকা নেই।
তাই আতিকুর ও সাথী চলে যান। যাবার সময় বলে যান তারা পুঠিয়া যাচ্ছেন। ফেরার পথে বিকালে উঠবেন। তখন যেন টাকা রেডি থাকে। এ ঘটনার পর নিকাহ রেজিস্ট্রার আসাদুল বিষয়টি কাটাখালি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর ওঁত পেতে থাকে পুলিশ। রাতে দুই ভাই-বোন চাঁদা নিতে গেলে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের বির্বদ্ধে থানায় মামলা করেন আসাদুল। এরপর মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

শর্টলিংকঃ