সমন্বিত ভর্তি পরীৰায় অংশ না নেয়ার ইঙ্গিত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত পরীৰার মাধ্যমে শিৰার্থী ভর্তি করাতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে সমন্বিত পরীৰায় কারা অংশগ্রহণ করবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে আগামি ২৬ ফেব্র্বয়ারি ফের বৈঠক আহ্বান করেছে ইউজিসি। সমন্বিত ভর্তি পরীৰায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ সোমবার একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক সভা আহ্বান করেছে প্রশাসন। এরপরই জানা যাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত ভর্তি পরীৰায় অংশগ্রহণ করবে কি না?
এর আগে, গত ১২ ফেব্র্বয়ারি ১২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসি’র সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সমন্বিত ভর্তি পরীৰার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে আলোচনা করে সমন্বিত ভর্তি পরীৰায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেন।
তবে ইতোমধ্যে বুয়েট, ও চবি সমন্বিত ভর্তি পরীৰা অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও সমন্বিত ভর্তি পরীৰায় অংশ নিচ্ছে না এমন নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক আশরাফুল আলম খান দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীৰার একটি সুনাম রয়েছে। এখানে প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ঘটনা এ পর্যন্ত ঘটেনি। কিন’ সমন্বিত ভর্তি পরীৰায় যে প্রশ্নফাঁস হবে না তার নিশ্চয়তা নেই। মেডিকেলের ভর্তি পরীৰার স্বচ্ছতা নিয়েও ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি আরও বলেন, গত বছর আমাদের একাডেমিক কাউন্সিলে সমন্বিত ভর্তি পরীৰায় অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে সবাই এক বাক্যে না করেছে। তারপরেও যেহেতু ইউজিসি সমন্বিত ভর্তি পরীৰার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে, সেৰেত্রে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আলোচনার পর বলা যাবে রাবি অংশগ্রহণ করবে কিনা।
একাডেমিক কাউন্সিলের আরেক সদস্য ও ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুলৱাহ আল মামুন বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীৰায় অংশগ্রহণ করা হবে আত্মঘাতী। সমস্ত মেডিকেল কলেজ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়গুলোতেও একই সিলেবাসে পড়ানো হয়। কিন’ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কখনোই একই কোর্স পড়ানো হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীৰার পদ্ধতি হচ্ছে শিৰার্থীদের ‘আইকিউ টেস্ট’। কিন’ সমন্বিত ভর্তি পরীৰায় লাখ লাখ শিৰার্থীর মধ্য থেকে সেটি পরীৰা করা সম্ভব নয়।
অনেকটা আব্দুলৱাহ আল মামুনের সুরে কথা বললেন সিন্ডিকেট সদস্য ও জাতীয়তাবাদী শিৰক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। সমন্বিত ভর্তি পরীৰার বির্বদ্ধে নিজের অবস’ান জানিয়ে তিনি বলেন, একই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও রাঙামাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীৰা হবে। এতে প্রশ্নের ফাঁস হবে না এমন নিরাপত্তা কে দিবে? মেডিকেল কলেজগুলোতে একই বিষয় পড়ানো হয়, ফলে সমন্বিত ভর্তি পরীৰা ঠিক আছে। কিন’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিন্ন ভিন্ন সাবজেক্ট পড়ানো হয়।
এদিকে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহ্বান করা হলেও সিন্ডিকেটের সভা আহ্বান করেনি প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিনিয়র অধ্যাপক বলছেন, সমন্বিত ভর্তি পরীৰায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের জন্য একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও জানে যে শিৰকরা এসিতে সমন্বিত ভর্তি পরীৰার বিষয়ে বিরোধিতা করবে। তাই প্রশাসন একাডেমিক কাউন্সিল ডাকলেও সিন্ডিকেট সভা ডাকেনি বলে ধারণা করছেন তারা।
সিন্ডিকেট সভা না ডাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদার বখ্‌শ হলের প্রাধ্যৰ ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম। তিনি বলেন, আগামীকাল (সোমবার) একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়েছে। তবে সিন্ডিকেট কবে নাগাদ হবে সেই বিষয়টি এখনো জানানো হয় নি। আমি সন্ধ্যাও খোঁজ নিয়েছি, তখনো সিন্ডিকেট সভায় ডাকা হয় নি। তবে উপাচার্য চাইলে যে কোনো সময় সিন্ডিকেট সভা ডাকতে পারেন বলেও জানান এই সিন্ডিকেট সদস্য।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, আগামীকাল (সোমবার) একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত ভর্তি পরীৰায় অংশগ্রহণ করবে কি না।

শর্টলিংকঃ