সভাপতি পেটালেন সম্পাদককে, রক্তাক্ত আ.লীগের দলীয় কার্যালয়

  • 29
    Shares

পাবনা প্রতিনিধি: আসন্ন পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষ, দলীয় কার্যালয়ের মধ্যেই একাধিক নেতাকর্মীকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহক আলী মালিথাসহ ১২ নেতাকর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন।

পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনে সামনে রেখে সোমবার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনকে অভ্যর্থণা জানানোকে কেন্দ্র করে তার সামনে এসব ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাতে আহতরা হলেন ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা, মুলাডুলি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার মালিথা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কবির মালিথা, পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সজিব মালিথা, যুবলীগকর্মী নাজিম উদ্দিন রনি, পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি সানোয়ার হোসেন লাবু, রিকশাচালক ওলিউর রহমান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আজিজ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম গোলবার হোসেন, যুবলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম, সেলিম রেজা ও আওয়ামী কর্মী আবু কালাম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, পাবনা সদর আসনের এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স, সাবেক স্বারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশের উপস্থিতিতেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার আকস্মিকতায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন।

গুরুতর আহত পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহক আলী মালিথা জানান, পাবনা-৪ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনকে অভ্যর্থনা জানাতে তিনিসহ স্থানীয় নেতারা কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষায় ছিলেন। ঠিক সেই সময় ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু তার সামনে এসে দাঁড়ালে তিনি তাকে সামান্য সরে দাঁড়াতে বলায় তাকে কিল, ঘুষি মেরে বসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় উভয় পক্ষে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এর রেশ ধরে তাৎক্ষণিক পৌর আওয়ামী লীগের দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থলের চেয়ার ছুঁড়ে একে অপরের সঙ্গে মারামারিতে লিপ্ত হন দলীয় নেতা-কর্মীরা। দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও তাদের থামাতে ব্যার্থ হন। পরে এই সংঘর্ষ দফায় দফায় অন্য নেতাকর্মীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের মধ্যেই ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সে সময় গুরুতর আহত পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহক আলী মালিথাকে উদ্ধার করে পুলিশ পাহারায় ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। বাকি আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।

সংঘর্ষের সময় ঈশ্বরদী শহরের স্টেশন রোডে ও বাজার এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাস্তায় জড়ো হন উৎসুক জনতা। শহরের মেইন রোডে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হলে বাজারে আসা শত শত মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। আতঙ্কিত হয়ে অনেককে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।

ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, এ ঘটনা নৌকার নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনে নৌকার বিজয় লাভ করার মধ্য দিয়ে ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে।

ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা বলেন, নির্বাচন বানচালের জন্য পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মিন্টু ইচ্ছাকৃতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ ঘটনা সম্পর্কে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে ঈশ্বরদীর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেখ নাসীর উদ্দীন এ ঘটনা সম্পর্কে বলেন, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। শহরে পুলিশ মোতায়েন ও বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি তবে শহরের পরিস্থিতী এখন শান্ত রয়েছে।

পাবনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বিশ্বাস। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ