সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

সোনালী ডেস্ক: নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আতঙ্কের মধ্যে সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, সতর্কতমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে বাড়িতে থাকে তা সবাইকে নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত এসেছে জানিয়ে দীপু মনি বলেন, কোচিং সেন্টারের ক্ষেত্রেও এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ১ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর সূচি রয়েছে। তার আগেই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
ডা. দীপু মনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের দিনগুলোতে সকল শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়িতে থাকতে হবে। এ বিষয়টি অভিভাবকদের নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে আর শিক্ষার্থী বাইরে ঘোরাফেরা করবে, তা করা যাবে না। বন্ধের পুরো সময়টা নিজ বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করার বিষয়টি অভিভাবকদের নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার মুজিবশতবর্ষে যেসব কর্মসূচি ছিল তা আগেই বাতিল করা হয়েছে। শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে পালিত হবে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মহামারি আকারে ধারণ করলেও আমাদের দেশে তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ থেকে মন্ত্রী পরিষদের সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে স্কুল-কলেজ বন্ধের সময়সীমা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে গ্রীষ্মের ছুটি ঘোষণা করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মহামারি আকারে ধারণ করলেও আমাদের দেশে তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ না কারর সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ থেকে মন্ত্রিপরিষদের সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ সময়ের মধ্যে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হোস্টেল বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত নেবে। এ সময়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে স্কুল-কলেজ বন্ধের সময়সীমা বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে গ্রীষ্মের ছুটি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখতে আমরা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এদিকে করোনাভাইরাস থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে সাময়িকভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিপরিষদ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন।
অপরদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। ১৮ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মতিন ভার্চুয়াল কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে একটি জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আটজন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনই বর্তমানে সুস্থ। দুজন বাড়ি ফিরে গেছেন। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৫২ জন এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ৬ হাজার ৫১৬ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। এ ছাড়া ৭৭ হাজার ৭৫৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এখন পর্যন্ত ১৫৭টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র চীনেই এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৮৬০ এবং সেখানে মারা গেছে ৩ হাজার ২১৩ জন। চীনের পর করোনাভাইরাসে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ইতালিতে। সেখানে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজার ৭৪৭ এবং মারা গেছে ১ হাজার ৮০৯ জন। দেশটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৫৯০। এরপরেই রয়েছে ইরান। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৩৮ এবং মৃতের সংখ্যা ৭২৪।
অপরদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ২৩৬ এবং মৃতের সংখ্যা ৭৫। স্পেনে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৮৪৫ এবং মৃতের সংখ্যা ২৯২। জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৮১৩ এবং মারা গেছে ১১ জন।

শর্টলিংকঃ