- সোনালী সংবাদ - https://sonalisangbad.com -

সংসদের বিশেষ অধিবেশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামীকাল

সোনালী ডেস্ক: বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংসদের বিশেষ অধিবেশন হবে কি-না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আগামীকাল বুধবার। সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্তটি নেয়া হবে। সেদিন বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ৫ মার্চ করোনাভাইরাস নিয়ে জাতীয়ভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করতে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকার আহŸান জানায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস এখন বিশ্বে মহামারী রূপে দেখা দিয়েছে। চীনের উহান প্রদেশে প্রথম বহিঃপ্রকাশ ঘটলেও বিজ্ঞানীরা এখনও এর উৎস বা কারণ জানতে পারেনি। এখনও পর্যন্ত এর প্রতিষেধক ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। ফলে এই রোগ বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ব্যবস্থাই একমাত্র উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এব্যাপারে কার্যকর প্রতিরোধের নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও, বাংলাদেশে এ সম্পর্কে যে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে তা নিতান্ত অপ্রতুলই নয়, কার্যত অনুপস্থিত।
প্রস্তাবে এও বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত¡ বিভাগ এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক সজাগ থাকলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মতোই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে যেমন উপেক্ষা-উপহাসের মনোভাব দেখিয়ে ছিলেন, এক্ষেত্রেও তাই। দেশের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও নৌবন্দরে আগমনী যাত্রীদের পরীক্ষা করার ব্যবস্থা কার্যত অনুপস্থিত। ওয়ার্কার্স পার্টি মনে করে, এধরনের মহামারী প্রতিরোধে বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া এবং এর বিস্তৃতি রোধে সব ধরনের কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অথচ এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেবল পিছিয়েই নেই, কিছুটা হলেও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকলে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশকে চরমমূল্য দিতে হবে, বলে সতর্ক করা হয় প্রস্তাবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত মুজিববর্ষ উদযাপনে আগামী ২২ মার্চ জাতীয় সংসদে বিশেষ অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এই অধিবেশনে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি এবং নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারীর ভাষণ দেয়ার কথা ছিল। এই বিশেষ অধিবেশন দুই কার্যদিবস চলার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে গত রোববার বলা হয়, দেশে করোনাভাইরাস দেখা দেয়ায় কোনো বিদেশি অতিথি আসছেন না। মুজিববর্ষের ১৭ মার্চের মূল অনুষ্ঠানও স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এর আগে ১৯৭৪ সালের ৩১ জানুয়ারি ও ১৮ জুন সংসদে বিশেষ অধিবেশন বসেছিল। যেখানে যথাক্রমে সাবেক যুগো¯øাভিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসেফ মার্শাল টিটো এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি ভাষণ দিয়েছিলেন।