সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা তদন্ত করা হবে

  • 32
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: ছাপানো সংবাদপত্রগুলোর নথিপত্রের সঙ্গে বাস্তবের প্রচার সংখ্যার মিল খুঁজে না পাওয়ায় ডিএফপির তদন্তের বাইরেও সরকারি তদন্ত সংস্থা দিয়ে তদন্তের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদপত্র ফোরামের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। ফোরামের উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রতন এবং সদস্য সচিব ফারুক আহমেদ তালুকদারের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতারা তথ্যমন্ত্রী এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে ফোরামের পক্ষ থেকে তাদের দাবি-দাওয়াগুলো তুলে ধরেন ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও সংগঠনের উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক পত্রিকা আছে নিয়মিত বের হয় না। যেদিন ক্রোড়পত্র বা বিজ্ঞাপন পায় সেদিন বের হয় কিন্তু এগুলো দৈনিক পত্রিকা হিসেবে নিবন্ধিত। এই পত্রিকাগুলোর উপস্থিতি যে পত্রিকাগুলো নিয়মিত বের হয় তাদের স্বার্থের হানী হয় এবং অনিয়মিত বের হওয়া পত্রিকাতো দৈনিক পত্রিকা হতে পারে না। এটি নিয়ে আমি উদ্যোগ নিয়েছি এজন্য অনেকেই আমার ওপর অসন্তুষ্ট।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন যাওয়ার একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো, আমি অনেকটা সেটি কমাতে সক্ষম হয়েছি। আপনাদের দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এটিকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। হাছান মাহমুদ বলেন, সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা নিয়ে, যে প্রচার সংখ্যা আছে, যেভাবে লিপিবদ্ধ আছে এটার সাথে বাস্তবতার আসলে মিল খুব কম। ডিএফপির তদন্তের বাইরেও সরকারি তদন্ত সংস্থা দিয়ে তদন্ত করানোর কাজ হাতে নিয়েছি। ডিএফপির তালিকাভুক্ত প্রথম ১০০টি পত্রিকা প্রথম তদন্ত করা হবে, এরপর বাকি ১০০ করে, এভাবে তদন্ত করা হবে। এরপর বোঝা যাবে আসলে প্রচার সংখ্যা কত।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে দু’একটি নতুন পত্রিকা বাদে সব পত্রিকার প্রচার সংখ্যা কমেছে। কিন্তু আমার কাছে দরখাস্ত আসে এই করোনাকালেও প্রচার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য, যেটি বাস্তবাতার সঙ্গে আসলে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

সরকারের সমস্ত ক্রোড়পত্র তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, সরকারি বিজ্ঞাপনের পরিমাণের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সরকারি বিজ্ঞাপনের বিল বিজ্ঞাপন প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে পাওয়া উচিত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে, আমরাও তাগিদপত্র দিয়েছিলাম, আমরা আবারও এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করব।

সম্পাদক হতে হলে পূর্ণকালীন সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকার পাশাপাশি সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা ও ন্যূনতম স্নাতক পাসের সনদ থাকার দাবির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক হতেই হবে সেটির সঙ্গে আমি একমত নই। কারণ বাংলাদেশে বহু মানুষ আছে যারা মেট্রিক পাস কিন্তু এমএ পাস বা পিএইচডি ডিগ্রিধারীর চেয়েও ভালো লিখে এবং তাদের সম্পাদক হওয়ার যোগ্যতা আছে। রবী ঠাকুর তো মেট্রিক পাস করেননি, কাজী নজরুলও করেননি, বিল গেটস কিন্তু বিশ্ববিদ্যলয় থেকে পর পর ফেল করায় বের করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের দেশেও এ ধরনের বহু সাংবাদিক আছেন, বহু লেখক আছেন যাদের বড় ডিগ্রি নেই কিংবা স্নাতক ডিগ্রি নেই। এজন্য ডিগ্রি পাস হতেই হবে সেটি বলে এখানে বার দিয়ে দেওয়া সঠিক হবে না।

সরকারি বিজ্ঞাপন নিয়েও নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না করা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই সেটাও একটি বিবেচ্য বিষয়। কারণ শুধুমাত্র প্রচার সংখ্যা নয়, তারা ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করছে কিনা সেটিও বিবেচ্য বিষয়।

ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ওয়েজ বোর্ড নিয়েও নানা ধরনের ঘাপলা আছে, সেটা আমি খোলাসা করে বলতে চাই না। সেই ঘাপলা কি আছে এখানে যারা নেতারা আছেন তারা জানেন। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে নবম ওয়েজবোর্ড কোনো পত্রিকা বাস্তবায়ন করেনি। অষ্টম ওয়েজ বোর্ড অনেকে বাস্তবায়ন করেছে। সেখানে সঠিকভাবে কতটি পত্রিকা বাস্তবায়ন করেছে সেটি নিয়েও প্রশ্ন আছে। তবে পত্রিকার প্রচার সংখ্যার সাথে সাথে পত্রিকাগুলোকে আপগ্রেড করার ক্ষেত্রে, বিজ্ঞাপন পাওয়ার ক্ষেত্রে ওয়েজবোর্ড অবশ্যই বিবেচ্য বিষয়।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ