শ্রমিক সঙ্কটে তানোরের আলুচাষিরা

সাইদ সাজু, তানোর: তানোরে সার ও বীজ সঙ্কটের পর এবার শ্রমিক সঙ্কটে পড়েছেন আলুচাষিরা। আলু চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই চাষিরা বেশি দামে শ্রমিক নিয়ে আলু রোপণ করছেন। অনেকেই শ্রমিক না পেয়ে আলু রোপণ শুরু করতে পারেননি।

আলুচাষিরা বলছেন, এবছর অন্য যেকোন বছরের চাইতে দুইগুণ বেশি দামে আলু বীজ কিনতে হয়েছে, সেই সাথে সার কিনতে গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত টাকা। অপর দিকে আলু রোপণে শ্রমিকের মূল্য বেড়ে গেছে অনেক। তারপরও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আলু চাষিরা জানান, শ্রমিক সঙ্কটের কারণে এবছর প্রতি বিঘায় ৫শ টাকা থেকে ৬শ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।

এ ব্যাপারে আলু চাষি আশরাফুল আলম বলেন, এবার ১৬ বিঘা জমিতে আলু রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছি, কিন্তু শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জমি তৈরি করার পরও শ্রমিক না পাওয়ায় আলু রোপণ শুরু করতে পারিনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও পাওয়া যাচ্ছে না শ্রমিক। আগে যারা বুকিং দিয়েছেন তাদের আলু রোপণ না করা পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজ করতে চাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, অন্য বছরগুলোতে বিঘা প্রতি শ্রমিকের মূল্য ছিলো ১ হাজার ৫শ টাকা থেকে ১ হাজার ৬শ টাকা। কিন্তু এবছর শ্রমিক সঙ্কটের কারণে প্রতি বিঘায় শ্রমিকের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১শ টাকা থেকে ২ হাজার ২শ টাকারও বেশি। তারপরও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এবছর আলু চাষে খরচ অন্য বছরের চেয়ে দুইগুণেরও বেশি হবে।

তানোর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর তানোর উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৩শ ৫০ হেক্টর। যা গত বারের চেয়ে বেশি। এবছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলেও জানান কৃষি অফিস।

এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম বলেন, রোপা আমন মাড়াই শেষ না হতেই কৃষকরা আলু রোপণ শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, অন্য বছরের চেয়ে এ বছর বেশি জমিতে আলু রোপণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আলু চাষিদের সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদানের জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্তকর্তারা সারাক্ষণ মাঠে থাকবেন বলেও জানান তিনি।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ