শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে অভিভাবকরা যা বলছেন

  • 7
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে খুলতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনার কারণে প্রায় ১১ মাস বন্ধ ছিলো সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

স্কুল-কলেজ খোলার এ সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিবাবকরা। খোলার পক্ষে মত দিলেও, স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে শঙ্কা রয়েছে অনেকেরই।

গত ১৭ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক জানান, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে খুলে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত আমাদের জানানো হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দেওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল-কলেজে পাঠদান কার্যক্রম করতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এর আগে ১৫ জানুয়ারি দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (কওমি মাদরাসা ছাড়া) চলমান ছুটি আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

এ বিষয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী পারমিতা সরকারের বাবা রমাপ্রসাদ বাবু বলেন, বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আনন্দের প্রধান উৎস, একই সঙ্গে শিক্ষারও। তারা প্রায় এক বছর ধরে তার শিক্ষকদের, সহপাঠীদের ও তার বন্ধুদের কাছে পায় না। এটা তার মানসিক বিকাশের বড় একটি অন্তরায়। একজন অভিভাবক হিসেবে আমি মনে করি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সীমিত আকারে বিদ্যালয় খোলা যেতে পারে।

মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী অর্চি সপ্তর্ষির মা মঞ্জু আরা বলেন, আস্তে আস্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা উচিত। কারণ বাচ্চারা তাদের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে বসেছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানার বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মারিয়াম মনোয়ার মৃত্তিকার মা কে এম দাস লেনের বাসিন্দা বদরুন নাহার বলেন, শপিংমল থেকে সিনেমা হল সবই এখন খোলা। সেক্ষেত্রে স্কুল কলেজও খুলতেই পারে। এক সময় তো খুলতেই হবে, কারণ করোনা কবে যাবে কেউ জানে না। বাচ্চারাও দীর্ঘসময় ঘরে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছে। স্কুল খুললে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি যেন সঠিকভাবে মানা হয়, সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে হবে।

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ফারিয়াজ মায়ান হকের মা মেহেরী হাসান বলেন, একজন অভিভাবক হিসেবে আমি চাই আমার বাচ্চা নিয়মিত স্কুলে যাক। ক্লাস করবে, সহপাঠীদের সঙ্গে মিশবে, পড়াশোনা করবে, খেলবে। এভাবেই বাচ্চাদের শিক্ষা জীবন এগিয়ে যায়, পড়াশোনার পাশাপাশি আদব কায়দা ও মানবিক গুণাবলী নিয়ে বেড়ে উঠবে। অনলাইন ক্লাস এক্ষেত্রে খুব সহায়ক বলে মনে করি না।

তিনি বলেন, করোনার কারণে মনের ভেতরে শঙ্কা কাজ করে এখনও। তাই সত্যি বলতে ভ্যাকসিন আসার পর স্কুল খোলা হলে, এই শঙ্কা কিছুটা হলেও কমতো। তা না করে আগে স্কুল খুলে দেয়াওটাকে হটকারি সিদ্ধান্ত মনে করি।

বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী সাবিরা মুশফিরাহের মা মেহেরুন নেছা বলেন, আমার মতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া উচিত। আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন যেহেতু স্বাভাবিক ভাবেই চলছে, বাচ্চাদেরকে আর ঘরবন্দি রেখে কি লাভ? স্কুল ছাড়া বাচ্চাদের মানসিক বিকাশ স্বাভাবিক হবে না। তবে স্কুলগুলোকে পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। আর ছাত্রছাত্রীদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান দেওয়া যেতে পারে, সতর্কতা অবলম্বন করে চলাফেরা করতে বলা যেতে পারে।

বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

সোনালী/জেআর

শর্টলিংকঃ