শিক্ষানগরীর শিক্ষার্থীদের আবাসিক সঙ্কট দেখার কেউ নেই

  • 3
    Shares

শিক্ষানগরী রাজশাহীতে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী বসবাস করেন। তাদের বেশির ভাগই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে হোস্টেল ও মেসের বাসিন্দা হয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে তারা যে সঙ্কটের মুখোমুখী হন তা দেখার কেউ ছিল না। হল-হোস্টেল বন্ধ হলে অনেকেই দেশের বাড়িতে ফিরে যান। যারা মেসে ছিলেন তাদের অর্ধেক ভাড়া দেয়ার কথা জানিয়ে দেয় মেস মালিকরা। অন্যথায় মেস ছেড়ে দিতে বলা হয়।

হল-হোস্টেলের যাদের টিউশানি বা অন্য প্রয়োজনে থেকে যেতে হয় তারা মেস বা বাসা-বাড়িতে ঘর ভাড়া নেন। আবার অনলাইনে ক্লাস বা পরীক্ষা দেয়ার প্রয়োজনে অনেকেই এভাবে থাকার ব্যবস্থা করেন। তাদের অগ্রীমসহ ভাড়া আগাম দিতে হয়। হল খোলার আন্দোলনের মুখে হঠাৎ করে পরীক্ষা স্থগিত হলে পরীক্ষার্থীরা মহাবিপাকে পড়ে যান।

বাইরে থেকে আসা এসব শিক্ষার্থীর আবাসন সমস্যা দেখার জন্য শিক্ষানগরীতে কেউই এগিয়ে আসেননি। ফলে তাদেরকে কী ভয়াবহ সঙ্কটের মুখে পড়তে হচ্ছে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। অগ্রিম দিয়ে কয়েকদিন থাকার পরও এখন তাদের পুরো টাকাই ছেড়ে দিতে হচ্ছে। অগ্রিম ফেরত দিতে মেস মালিক বা বাড়িওয়ালারা অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

আয়ের ভিন্ন উৎস না থাকায় মেস মালিকদের অনেকেই এ ক্ষেত্রে নাচার। আগে নিয়মিত মেসে না থাকায় যাদের ভাড়া অর্ধেক নেয়া হচ্ছিল এ বছর থেকে তাদেরকেও পুরো ভাড়াই দিতে হবে। কারণ করোনা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক বলে জানিয়েছে মেস মালিকপক্ষ।

এক বছরের করোনা পরিস্থিতির এই ধরনের বিড়ম্বনা কমবেশি আগে থেকেই ছিল। সুযোগ-সুবিধার বালাই না থাকলেও করার কিছু ছিল না। কারণ মেসের পরিস্থিতি দেখভালের দায়িত্ব কারও নেই। মালিকপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বিষয়টা অমানবিক হলেও অসহায় মেসের বাসিন্দারা।

শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর শিক্ষার্থীদের এই আবাসিক সমস্যা নিয়ে কারও মাথা ব্যথা না থাকাটা স্বাভাবিক বলা যাবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন ও নগর কর্তৃপক্ষ ছাড়াও জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন যারা মানুষের ভালো মন্দের দেখভাল করেন। তারা কেন শিক্ষার্থীদের আবাসিক সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না সেটা আমাদের জানা নেই।

হাজার হাজার অনাবাসিক শিক্ষার্থীর বিষয়টি তাদের নজরে আসলে হয়তো একটা সুরাহা হলেও হতে পারে। তখন আর বলা যাবে না, শিক্ষানগরীর এই শিক্ষার্থীদের আবাসিক সমস্যা দেখার কেউ নেই। সেই সময়ের অপেক্ষায় থাকা ছাড়া বিকল্প আর কি আছে?

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ