শিক্ষকদের আন্দোলনে বন্ধ অনলাইন ক্লাস

  • 3
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: মহামারী করোনাভাইরাস দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো পিছিয়ে পড়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। তাই শিক্ষার্থীরা যেকোনো মূল্যে সিলেবাস শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় খুললেই পরীক্ষায় অংশ নিতে চান। এ লক্ষ্যে মাঝে অনলাইন ক্লাস শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির আন্দোলনে তা বন্ধ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়টির বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

পদোন্নতি সংক্রান্ত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান মাহমুদ বলেন, গত ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে করোণাকালীন মহামারীর জন্য পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষই কোনো না কোনো ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ প্রতিমাসেই কিন্তু তাদের বেতন ভাতা ঠিকই পেয়ে গেছেন। তারপরও শুধুমাত্র আপগ্রেডেশনের জন্য অনলাইন ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত খুব ঘৃণ্য এক সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি। ক্লাস না হলে পরীক্ষা হবে না, আমরা বছরের পর বছর সেশন জটে পড়ব। ’

শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী চৌধুরী সালমান রহমান বলেন, “শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ করবো তারা যেনো দ্রুত আমাদের ক্লাস গুলো নেওয়ার ব্যবস্থা করে। না হয় আমরা আরো বেশি পিছিয়ে যাচ্ছি। আশা করবো আমাদের কথা তারা চিন্তা করবেন।”

তবে শিক্ষার্থীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লেও প্রকৃতপক্ষে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলে দাবি করেছেন বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো: কামরুজ্জামান। ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এর আগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেও সমাধান না পেয়ে এধরণের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। তবে এই সিদ্ধান্তের জন্য শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। আন্দোলন শেষে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে বর্তমান ক্ষতি সমন্বয় করা হবে।”

এভাবে দীর্ঘদিন ক্লাস বন্ধ রেখে পরবর্তীতে অতিরিক্ত ক্লাস নেয়া হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে যাবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ.কিউ.এম মাহবুব বলেন, আপগ্রেডেশনের জন্য রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং প্রয়োজন। রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং ব্যতিত আমার একার পক্ষে তো কিছু করা সম্ভব নয়। আগামী ২৪ তারিখ রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং হবে। আমি শিক্ষক সমিতিকে বলেছিলাম ক্লাসে ফিরে যেতে এবং ২৪ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। কিন্তু শিক্ষক সমিতি তাদের সিদ্ধান্তে অনড়।’

উপচার্য বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে শিক্ষা প্রদান করা, তাদের উন্নয়নে কাজ করা। কিন্তু যারা নিজেদের দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে তারা আদর্শ শিক্ষক কিনা এ বিষয়ে আমি সন্দিহান।

সোনালী সংবাদ/এসএসকে

শর্টলিংকঃ