শহিদের স্বীকৃতি ও পেনশন মঞ্জুরের দাবিতে নগরীতে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার: একাত্তরের ২৬ এপ্রিল রাজশাহীর পবা-বোয়ালিয়া জয়েন্ট সার্কেল রাজস্ব অফিসের ফিল্ড কানুনগো ফজলে বারী পাকসেনাদের হাতে শহিদ হন। রাজশাহী সিটি করপোরেশন ফজলে বারীর মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উলেৱখ করেছে ‘১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাক সেনাবাহিনীর গুলিতে শহিদ’। সিটি করপোরেশন এই স্বীকৃতি দিলেও শহিদ হিসেবে মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
তাই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফজলে বারীর ছেলে মাসুম কবীর। গতকাল রোববার রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। মাসুম কবীর একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। নগরীর শিরোইল মঠপুকুর এলাকার বাসিন্দা। সংবাদ সম্মেলনে মাসুম জানান, শহিদের সন্তান হিসেবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা তো দূরের কথা; একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে বাবার প্রাপ্য পেনশনও তিনি পাচ্ছেন না।
মাসুম কবীর জানান, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় তার বাবা ফজলে বারী রাজশাহী কলেজের ছাত্র ছিলেন। সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে ভাষা আন্দোলনে। পরে তিনি ফিল্ড কানুনগো পদে যোগ দেন। পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি পড়াশোনা করছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল নগরীর শিরোইল মসজিদের সামনে ফজলে বারীকে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করে পাকসেনারা।
এরপর ফজলে বারীর স্ত্রী বেগম সুলতানা রাজিয়া স্বামীর পেনশনের সামান্য টাকায় অনেক কষ্ট করে তিন সন্তানকে বড় করেন। দীর্ঘ দিন অসুস’ থেকে ২০১৮ সালে তিনি মারা যান। এরপর পেনশনটাও বন্ধ হয়ে যায়। কিছু দিন পর তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় ছেলে নাসিম ইকবাল বেকারত্বের কারণে ধুকে ধুকে মারা যান। বড় ছেলে সেলিম পারভেজ ছোট একটি চাকরি করেন। অসহায় অবস’ায় রয়েছেন ছোট ছেলে মাসুম কবীর।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুম বলেন, তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার সনদও আছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি মায়ের মৃত্যুর পর বাবার পেনশনের টাকা পায়। কিন’ তিনি পান না। এ নিয়ে সকল কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেছেন। জেলা প্রশাসক হামিদুল হক উদ্যোগও নিয়েছেন। কিন’ বিভাগীয় হিসাবরৰণ অফিসের অসহযোগিতার কারণে পেনশন চালু হয়নি। একজন শহিদের পেনশন আটকে থাকা সবার জন্য লজ্জার। তিনি বলেন, যেটা বিধিসম্মত আমরা সেটাই চাচ্ছি। কর্তৃপৰ আন্তরিক হলে সাতদিনেই সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি শহিদ হিসেবে বাবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও দাবি করেন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন তদন্ত করে আমার বাবাকে শহিদ হিসেবে মৃত্যুসনদ দিয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর, মুক্তিযোদ্ধা সংসদও প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে। বাবাকে হত্যার এখনও অনেক প্রত্যৰদর্শী বেঁচে আছেন। তারা সাৰী দিয়েছেন। তাহলে তার বাবা শহিদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবেন না কেন, প্রশ্ন রাখেন মাসুম।
সংবাদ সম্মেলনে নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হক বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনও উপসি’ত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে প্রতিবন্ধী মাসুম খুবই কর্বণ অবস’ায় দিনাতিপাত করছেন। তারাও তার বাবার পেনশন দেয়ার দাবি জানান।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, মাসুম কবীর আবেদন করেছেন। তার আবেদন যৌক্তিক। আমরাও তার ব্যাপারে আন্তরিক। কিন’ দীর্ঘ দিনের পুরনো নথিপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য সংবাদ সম্মেলনের প্রয়োজন নেই। একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ন্যূনতম কিছু প্রমাণপত্র বের করতে। কারণ, এটা তো টাকা-পয়সার ব্যাপার। সতর্কতার সাথে সবকিছু করতে হবে।

শর্টলিংকঃ