লিটন-ডাবলুই নগর আ’লীগের নেতৃত্বে

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে গুজব কম ছড়ানো হয়নি। এবার সম্মেলনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসছে বলে নানা ধরনের প্রচারণা ছড়ানো হয় নগরীতে। আবার কেউ কেউ বলতে থাকেন শুধু সাধারণ সম্পাদক পদেই আসবে পরিবর্তন। পদপ্রত্যাশিরা প্রতিদ্ব›দ্বী নেতার নামে কৌশলে মেতে ওঠেন অপপ্রচারে। তবে এ সব কিছু ছাপিয়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং ডাবলু সরকারই নেতৃত্বে এসেছেন।
গতকাল রোববার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে নগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সভাপতি এবং তরুণ নেতা ডাবলু সরকার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তাদের ওপরেই ভরসা রেখেছে। সদ্যবিলুপ্ত কমিটিতেও তারা এ পদে ছিলেন। এবার সম্মেলনেও যেন তাদের একই পদে রাখা হয় সেই প্রত্যাশা জানিয়ে আসছিলেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সম্মেলনে তাদের দাবিরই প্রতিফলন ঘটেছে।
গতকাল দুপুর ২টায় মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে লিটন-ডাবলুর নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ওবায়দুল কাদের। নাম ঘোষণার সময় তিনি বলেন, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক তিনি নতুন কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি দেয়া হচ্ছে। জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনও হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য মহানগরকে এক মাস সময় দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে। তা না হলে কমিটি ভেঙে দেব।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগে অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী আছেন। তারা যেন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বাদ না পড়েন। মুখচেনা লোককে কমিটিতে আনার জন্য তারা যেন কোণঠাসা হয়ে না পড়েন। এরপর ওবায়দুল কাদের সভাপতি হিসেবে সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের নাম ঘোষণা করেন। এরপর ঘোষণা করেন সাধারণ সম্পাদকের নাম। এ সময় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উচ্ছ¡াস প্রকাশ করেন। নেতাকর্মীরা বলছেন, এ দুই নেতার হাত ধরে নগর আওয়ামী লীগ যেমন সুসংগঠিত হয়েছে তেমনি আগামীতেও দল আরও এগিয়ে যাবে।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমÐলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. আবদুল খালেক, ড. সাইদুর রহমান খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠাÐু ও বেগম আখতার জাহান।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের এমপি ডা. মুনসুর রহমান ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আদিবা আনজুম মিতা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।
এর আগে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয় ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর। ওই সম্মেলনে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সন্তান খায়রুজ্জামান লিটন বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। আর ডাবলু সরকার সাধারণ সম্পাদক হন কাউন্সিলরদের ভোটে। এবার সভাপতি পদে খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়াও সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১৩ জন নেতা প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আবারও সাধারণ সম্পাদক হলেন তরুণ নেতা ডাবলু সরকার।
আবারও নগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসায় এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং ডাবলু সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগরের পক্ষ থেকেও তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। নগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু তাদের দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারাও খায়রুজ্জামান লিটন ও ডাবলু সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুননেসা তালুকদার, মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার সফিকুর রহমান রাজা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সদস্য মতিউর রহমান, সাবেক মহানগর কমান্ডার ডা. আব্দুল মান্নান, ডেপুটি কমান্ডার মোহাম্মদ আলী কামাল, রবিউল ইসলাম, সাবেক মহানগর সহকারী কমান্ডার তৈয়বুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা লীগের জেলা সভাপতি আব্দুস সামাদ, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, মুক্তিযুদ্ধ ৭১-এর কানপাড়া সভাপতি সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবুল হাসান খন্দকার, জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার শাহাদুল হক মাস্টার, ডেপুটি কমান্ডার ইয়াছিন আলী মোল্লা, নগর আওয়ামী লীগের সদ্যবিলুপ্ত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এনামুল হক কলিন্স, ১০ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আলিমুল রাজি মিঠু, ২৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জাহের হোসেন সুজা প্রমুখ খায়রুজ্জামান লিটন ও ডাবলু সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শর্টলিংকঃ