লন্ডনে পড়াশোনা করে রেশমে আত্মনিয়োগ

স্টাফ রিপোর্টার: লন্ডনে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন আহমেদ রোজা। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করে সেখানে থেকে যাননি। দেশে ফিরে বাবার রেশম কারখানার হাল ধরেছেন। কারখানাটি রেশম নগরী রাজশাহীর বিসিক শিল্প এলাকায়। নাম সানফ্লাওয়ার টেক্সটাইল মিল। আহমেদ রোজা এখন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক।
তার বাবা আবদুল ওহাব ১৯৯০ সালের দিকে রেশম কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন রাজশাহীর রেশমের জৌলুস ছিলো। কিন্তু দিনে দিনে রেশম তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলে। এখন আহমেদ রোজা আশা করছেন, রেশমের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে তার কারখানা ভূমিকা রাখবে।
কারখানাটিতে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা কাজ করছেন। হ্যান্ডলুমচালিত সেমি অটোলুম মেশিন দিয়ে তৈরি হচ্ছে রেশম কাপড়। রপ্তানি মানের সিল্ক, জামদানি, মসলিন, সিল্কমটকা, কোরা সিল্ক, থ্রিপিচ এবং পাঞ্জাবির জন্য কাপড় উৎপাদন করা হচ্ছে। তাঁত শিল্পের মাধ্যমেও সেখানে কাপড় উৎপাদন করা হচ্ছে।
আহমেদ রোজা জানালেন, উৎপাদিত কাপড় তারা আড়ং, ব্র্যাকসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন। কারখানাটির প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, উইভিং কারিগরদের কাজের মান, উদ্ভাবনী দক্ষতা বৃদ্ধি ও সহজ করা এবং উন্নত মানের কাঁচামাল আমদানির জন্য তিনি কম্বোডিয়া, চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেছেন। অভিজ্ঞতা নিয়ে এসে কাপড়ের মান বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। রপ্তানি করার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় কাপড়ের নমুনা পাঠিয়েছেন।
কারখানার স্বত্বাধিকারী আব্দুল ওহাব বলেন, ছেলে লন্ডন থেকে পড়াশোনা করে এসে কারখানার হাল ধরেছে। তারপর থেকে আশায় বুক বেঁধেছি যে, রেশম কাপড় নিয়েই আবার কারখানা ঘুরে দাঁড়াবে। আগামীতে কারখানায় আরও হ্যান্ডলুম বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তা আহমেদ রোজা বলেন, ছোটবেলা থেকে রেশম কাপড় তৈরি হতে দেখে এসেছি। তখনই রেশম নিয়ে আরও ভালো কিছু করার ইচ্ছে তৈরি হয়। তাই পড়াশোনা শেষ করে রেশমেই আত্মনিয়োগ করেছি। রেশমের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে আশা করি আমাদের কারখানাও ভূমিকা রাখবে।

শর্টলিংকঃ