রোহিঙ্গাদের হাতে ‘এনজিওর দেয়া’ ধারালো অস্ত্র

অনলাইন ডেস্ক:

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে এনজিও কর্তৃক সরবরাহকৃত ধারালো অস্ত্র। এসব অস্ত্রের কারণে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের গ্রুপিং, আধিপত্য বিস্তার, খুন, অপহরণ, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে দিন দিন হিংস্র হয়ে যে কোনো অপরাধ করতে দ্বিধা করছে না তারা। ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধপ্রবণতা কমাতে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার দাবি করেন স্থানীয়রা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প থেকে বেশ কিছু ধারালো অস্ত্রসহ ৬০ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় উখিয়া থানায় খুন, ধর্ষণ, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৫টি মামলা রুজু করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, জব্দকৃত এসব অস্ত্রের সঙ্গে ইতোপূর্বে এনজিও শেড, মুক্তি-কক্সবাজারসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রদত্ত রোহিঙ্গাদের কৃষি উপকরণ হিসেবে (দা, কোড়াল, নিড়ানি) সরবরাহ করা হয়।

২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের দেশীয় ধারালো অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে উখিয়া সদরের মালভিটাপাড়া শেড অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্র জব্দ করে।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট কোটবাজারের ভালুকিয়া সড়কের কামারের দোকান থেকে এনজিও মুক্তি কর্তৃক অর্ডারকৃত বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে প্রশাসন।

ওই সব অস্ত্রের সঙ্গে সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে প্রশাসনের অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মিল থাকায় ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহলকে।

এ বিষয়ে উখিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মো. তহিদুল আলম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে অস্ত্রমুক্ত করতে প্রয়োজনে সেনা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে ইতোপূর্বে যেসব এনজিওর বিরুদ্ধে ধারালো সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে ওই সব এনজিও সংস্থাকে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে কাজ বন্ধ করে দিতে হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও শেড কর্তৃক সরবরাহকৃত ধারালো অস্ত্রের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রোগ্রাম অফিসার মো. শওকত বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ইতোপূর্বে প্রশাসনের জব্দকৃত কৃষি উপকরণগুলো (ধারালো দা, কুড়াল, নিড়ানি) স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার ওই প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়।

এ বিষয়ে মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র বলেন, ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে এসব কৃষি উপকরণ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) গাজী সালাহউদ্দিন বলেন, ক্যাম্পে চলমান ঘটনায় ১৫ মামলায় এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বেশ কিছু ধারালো অস্ত্রসহ ৬০ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।

অফিসার ওসি আহমেদ সঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে তিনি অবগত নয়। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইতোপূর্বে এনজিওগুলো কী ধরনের সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে এবং নতুন করে কী করছে- সে সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি অবগত নই। তবে এনজিও কর্তৃক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহকৃত কৃষি উপকরণের নামে ধারালো সরঞ্জামের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। -যুগান্তর

সোনালী সংবাদ/এইচ.এ

শর্টলিংকঃ