রেশমের ঐতিহ্য ফেরানোর উদ্যোগ সফল হোক

 রেশমের ঐতিহ্যে একসময় রাজশাহী সুপরিচিত ছিল। সরকারি রেশম কারখানাটি বন্ধ করে দেয়ায় তা হারিয়ে যেতে বসেছে। লোকসানের অজুহাতে ২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার কারখানাটি বন্ধ করে দেয়ার ১৬ বছর পর ২০১৮ সালে ছয়টি লুম চালুর মাধ্যমে আবারও জীবন ফিরে পায় রাজশাহী রেশম কারখানা।

ধীরে ধীরে চালু হওয়া ১৭টি লুমে এখন কাপড় তৈরি হচ্ছে। তবে কারখানা লাভজনক করতে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আরও বেশি লুম চালু করার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সিনিয়র সহ-সভাপিত ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।

রেশম কারখানা বন্ধ করে দেয়ার সময় ৬৩ টি লুম থাকলেও উৎপাদন চলতো পুরানো ৩৫ লুমে। নতুন ২৮ টি লুম আনা হলেও উৎপাদনে যাবার আগেই বন্ধ হয়ে যায় কারখানা। বন্ধের আগে সেখানে বছরে এক লাখ ৬ হাজার মিটার রেশম কাপড় উৎপাদন হতো। ৬৩ লুমের সবগুলো চালু হলে বছরে দুই লাখ ৮৭ হাজার মিটার কাপড় উৎপাদন অসম্ভব কিছু না। তখন কারখানাটি লাভজনক হবে বলেই ধারণা করা যায়।

তবে এ জন্য কারখানাটি আধুনিকায়নের পাশাপাশি মানসম্মত রেশম সুতার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তুঁতচাষ, গুটি পোকা উৎপাদন ও সুতা তৈরির ব্যবস্থাও করা দরকার। বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় আগে এসবের অভাব ছিল না। এখন সেই কাঠামো পুর্নগঠন করা মোটেই অসম্ভব নয়। তবে এ জন্য দরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা, আন্তরিকতা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ।

রেশম উন্নয়ন বোর্ড এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পিছিয়ে থাকবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। বিশেষ করে সংসদ সদস্য বাদশার আগ্রহ এক্ষেত্রে বরাবরই লক্ষ্য করা গেছে। রেশমের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখবে এটাই রাজশাহীবাসীর কামনা।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ