রেলে পণ্য পরিবহন বাড়াতে কেনা হচ্ছে লাগেজ ভ্যান এবং ওয়াগন

সোনালী ডেস্ক: রেলে পণ্য পরিবহন বাড়াতে লাগেজ ভ্যান এবং খোলা ও কাভার্ড ওয়াগান কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রায় অর্ধশতক পর লাগেজ ভ্যান কিনতে যাচ্ছে। রোলিং স্টক অপারেশনস ইমপ্রæভমেন্ট প্রজেক্ট অব বাংলাদেশ রেলওয়ে (রোলিং স্টক প্রকিউরমেন্ট) শীর্ষক একটি প্রকল্পের আওতায় ১২৫টি লাগেজ ভ্যানের পাশাপাশি ৩০০ খোলা ওয়াগন ও ৭০০ কাভার্ড ওয়াগন কেনা হবে।
এর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ে সর্বশেষ লাগেজ ভ্যান কিনেছিল ১৯৭২ সালে। এখন নতুন করে ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। আর গৃহীত প্রকল্পে ঋণসহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মূলত কৃষিপণ্য, যাত্রীদের ভারী মালপত্র ও ব্যবসায়িক পণ্য পরিবহনের কাজে বাংলাদেশে লাগেজ ভ্যান ব্যবহার হয়। ভ্যানগুলো জুড়ে দেয়া থাকে বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে সচল লাগেজ ভ্যান আছে ৬৩টি, যার ৫৩টিই মিটার গেজে চলার উপযোগী। নতুন লাগেজ ভ্যানগুলোর মধ্যে মিটার গেজ রেলপথে চলাচল উপযোগী ৭৫ ও ব্রড গেজ রেলপথে ৫০টি। প্রতিটি মিটার গেজ লাগেজ ভ্যানের প্রাক্কলিত দাম ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আর প্রতিটি ব্রড গেজ লাগেজ ভ্যানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। বিগত ১৯৭২ সালে রেলওয়েতে যেসব লাগেজ ভ্যান যোগ হয়েছিল ১৯৬৯ সালে সেগুলো কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম লাগেজ ভ্যান কেনার উদ্যোগ নিল বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই রেলওয়ের কাছে লাগেজ ভ্যানের দরদাম সংক্রান্ত তেমন কোনো তথ্য ছিল না। ফলে সম্প্রতি কেনা কোচের দামের ওপর ভিত্তি করে কেনার প্রক্রিয়ায় থাকা লাগেজ ভ্যানগুলোর দাম প্রাক্কলন করা হয়। প্রকল্পটিতে সব মিলিয়ে খরচ হচ্ছে ৩ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। তার মধ্যে এডিবির ঋণ ২ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। বাকি ৭৬২ কোটি টাকা জোগান দিচ্ছে সরকার। তার মধ্যে ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কিনতে সব মিলিয়ে খরচ হচ্ছে ৩২৮ কোটি টাকা। ৩০০ খোলা ওয়াগনের দাম পড়ছে ২০৮ কোটি ও ৭০০ কাভার্ড ওয়াগন কিনতে খরচ হচ্ছে ৫৪০ কোটি টাকা। এর বাইরে ১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকায় ৪০টি ব্রড গেজ ইঞ্জিনও (লোকোমোটিভ) কেনা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, প্রায় অর্ধশত বছর পর লাগেজ ভ্যানের পাশাপাশি খোলা ওয়াগনও কেনা হচ্ছে। বর্তমানে রেলওয়েতে ২৩১টি খোলা ওয়াগন আছে, যার সবই মিটার গেজের। ওসব ওয়াগনের বয়স প্রায় ৫৫ বছর। নতুন করে মিটার গেজ রেলপথের জন্য ১৮০টি ও ব্রড গেজ রেলপথের জন্য কেনা হচ্ছে ১২০টি খোলা ওয়াগন। মিটার গেজের প্রতিটি খোলা ওয়াগনের দাম প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭০ লাখ টাকা। আর প্রতিটি ব্রড গেজ খোলা ওয়াগনের দাম প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯০ লাখ টাকা। একইভাবে কেনা হচ্ছে ৭০০ কাভার্ড ওয়াগন। তার মধ্যে ৪০০টি কেনা হচ্ছে মিটার গেজ রেলপথের জন্য, বাকি ৩০০টি ব্রড গেজের জন্য। রেলওয়ে প্রতিটি মিটার গেজ ওয়াগন ৮০ লাখ এবং প্রতিটি ব্রড গেজ ওয়াগনের দাম ১ কোটি টাকা প্রাক্কলন করেছে। বর্তমানে রেলের বহরে সব মিলিয়ে কাভার্ড ওয়াগন ৮২১টি রয়েছে। ওসব ওয়াগনের বর্তমান বয়স ৩৭ বছর। মেকানিক্যাল কোড অনুযায়ী, একটি ওয়াগনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ৪৫ বছর। অর্থাৎ কাভার্ড ওয়াগনগুলোরও আয়ু শেষদিকে এসে ঠেকেছে।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে লাগেজ ভ্যান, খোলা ওয়াগন ও কাভার্ড ওয়াগনগুলো কিনতে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান আছে। ইতিমধ্যে এ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়া আগ্রহ দেখিয়েছে। রেলপথমন্ত্রীও সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া সফর করেছেন। ওই সময় ইন্দোনেশিয়ার রেলগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিটি ইনকা বাংলাদেশের জন্য ১ হাজার ৫০টি ‘রেল কার’ সরবরাহের আগ্রহ দেখিয়েছে।

শর্টলিংকঃ