রুয়েট শিক্ষকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। আবি আম্মার রহমান নামে এক ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তুলেছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম. মো. শামীমুর রহমান। তিনি রুয়েটের গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং (জিসিই) বিভাগের অধ্যাপক। তিনি জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অভিযোগ অসত্য। ড. শামীমুর রহমান দাবি করেছেন, তিনি কারও জমি জোর করে দখল করেননি। বরং তিনিও টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন।

নগরীর চন্দ্রিমা থানার জামালপুর মৌজার প্রায় তিন কাঠা জমি নিয়ে ড. শামীমুর রহমানের সঙ্গে আবি আম্মার রহমানের বিরোধ। আবি আম্মার রহমানের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মহদীপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আনিসুর রহমান। আবি আম্মার একটি বেসরকারি কম্পানিতে কুষ্টিয়ায় কর্মরত।

শুক্রবার বিকালে তিনি রাজশাহী নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে লিখিত বক্তব্যে আবি আম্মার রহমান বলেন, তিনি ও তার বাবা ২০১১ সালে জামালপুর মৌজার জেএল নম্বর-১৩৬, আরএস দাগ নম্বর-৭০ এ তিন কাঠা জমি কেনেন। রানীনগর সাধুরমোড় এলাকার নুরুজ্জামান শেখ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকায় জমিটি কেনা হয়। জমির দলিল নম্বর-১৯৬২৬। ২০১২ সালের ২৯ মার্চ তারা জমির খারিজ করেন এবং ২০২১ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করেন।

জমিটির প্রস্তাবিত খতিয়ান নম্বর-১৩০৩। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আবি আম্মার রহমান ও তার বাবার জমির সামনে রাস্তার ওপারে ২০১৫ সালে জমি কেনেন রুয়েট শিক্ষক ড. শামীমুর রহমান। তিনি খোদেজা বেগম খাদিজা নামের এক নারীর কাছ থেকে জমি কেনেন। কিন্তু ড. শামীমুর রহমান আবি আম্মার রহমান ও তার বাবার জমি দখল করে আধাপাকা স্থাপনা তৈরি করেছেন।

আবি আম্মার রহমান বলেন, আমি চাকরির সুবাদে কুষ্টিয়ায় থাকি। আমার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। আমরা জমিতে খুব একটা আসতে পারি না। হয়তো মাসে একবার আসি। আমাদের অনুপস্থিতির কারণে ড. শামীমুর রহমান চৌহদ্দী জালিয়াতি করে সীমানা ভেঙে আমাদের জমি দখল করেছেন। খবর পেয়ে আমরা ছুটে এলে তিনি আমাদের বলেছেন, ‘এই জমি আমি দখল করে নিয়েছি, আমারই থাকবে। তুই কোথাকার কে? পারলে জমি আদায় করে নিস’। তিনি এখনও আমাদের হুমকি দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জমি দখলের এই ঘটনাটি লিখিত এবং মৌখিকভাবে চন্দ্রিমা থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। কিন্তু অধ্যাপক ড. শামীমুর রহমান থানায় উপস্থিত হননি। অভিযোগকারীরা পুলিশের পক্ষ থেকেও সহায়তা পাননি। তাই তারা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. শামীমুর রহমান বলেন, যারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা নুরুজ্জামান শেখ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি কিনেছেন। নুরুজ্জামান মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি খোদেজা বেগমের কাছেও জমি বিক্রি করেছেন। আমি জমি কিনেছি এই খোদেজা বেগমের কাছ থেকে। এ নিয়ে একটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। কিন্তু আমি কারও জমি দখল করিনি।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ