রায়ের দিন ধরা পড়ল মারাত্মক ভুল

অনলাইন ডেস্ক: হত্যার দিন অন্য মামলায় কারাগারে ছিলেন আসামি। অথচ খুনের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ৪ বছর ৩ মাস বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার দিন বেরিয়ে এলো মারাত্মক ভুল। পিছিয়ে গেল ব্লগার ওয়াশিকুর হত্যা মামলার রায়। এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে রাষ্ট্রপক্ষও।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ বাসার সামনে ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ কুপিয়ে হত্যা করা হয় ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে। ঘটনার পাঁচ বছর পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলমের আদালতে রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। হাজির করা হয় গ্রেফতার ৩ আসামিকেও। কিন্তু হঠাৎ রায় পেছানোর আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

আসামিদের বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ গঠন করে সব সাক্ষীর সাক্ষ্য আবার নিতে বলে আদালতে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন হাওলাদার।

সেই আবেদন গ্রহণ করে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল ইসলাম নতুন করে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৪ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মামলাটি ২২৭ ধারা মোতাবেক অভিযোগ সংশোধন করে দণ্ডবিধির ১২০(বি) ধারায় পুনঃঅভিযোগ গঠন করার আবেদন করেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারায় বলা হয়েছে, রায় প্রকাশ করার আগে যে কোনো পর্যায়ে আদালত অভিযোগ পরিবর্তন করতে পারে। দণ্ড আইনের ১২০(বি) ধারায় বলা হয়েছে, অপরাধজনক ষড়যন্ত্রের কথা।

পুনরায় অভিযোগ গঠনের আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম ঘটনার সময় অন্য একটি নাশকতার মামলায় কারাগারে ছিলেন। সুতরাং তিনি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না। তিনি কারাগারে থেকেই হত্যার একজন ষড়যন্ত্রকারী ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন।

সাইফুলকে কারাগার থেকে এনে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন বলেন, আগের বিচারক স্পশর্কাতর এ মামলায় অভিযোগ গঠনের সময় সাইফুলের ব্যাপারে সে কথা উল্লেখ করেননি। এ আসামিকে এ ধারার (১২০বি) অভিযোগে যুক্ত করেননি, যা মামলার বিচারে মারাত্মক একটি ত্রুটি। আর যে কারণে সাইফুলকে মামলায় সাজা দেয়াও হতো ত্রুটিযুক্ত।

তাই রায় ঘোষণা পিছিয়ে পুনরায় সাইফুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য ৪ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের এ ধরনের ভুলের কঠোর সমালোচনা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

ব্লগার ওয়াশিকুর হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৫ আসামিই জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২৪ সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ