রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ব্যক্তিমালিকানায় দেয়া কোনো সমাধান নয়

অব্যাহত লোকসানের কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেয়ার পাশাপাশি পিপিপির (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) আওতায় চালু হবার পর চাকরির ক্ষেত্রে পুরানদেরই সেখানে অগ্রাধিকার দেয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের নামে শ্রমিকদের যে টাকা দেয়া হচ্ছে তার বড় অংশই তাদের বকেয়া পাওনা। অন্যদিকে পাটকলে আগ্রহী ব্যক্তিমালিকরা পিপিপিতে আগ্রহী নন, তাই এখন তাদের লিজ দেয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। পাটমন্ত্রীর এমন কথায় বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল আধুনিকায়ন নয়, ব্যক্তিগতকরণই ছিল ওইসব মিল বন্ধ করার উদ্দেশ্য।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠনের নেয়া কর্মসূচিতে এমন বক্তব্যই উঠে এসেছে। ওয়ার্কার্স পার্টির বক্তব্যে ঐতিহ্যবাহী পাটকলগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে রেখেই আধুনিকায়ন করার সময় এখনও আছে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু যার ভিত্তিতে বাহাত্তর সালে পাটকলগুলো জাতীয়করণ করেছিলেন, সেই নীতির যথার্থ অনুসরণের দাবি জানানো হয়েছে। হঠাৎ করে পাটকলসমূহ বন্ধ করে দেয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার হারাতে বসেছে দেশ। বেসরকারি খাতে পাটপণ্য রপ্তানি নিয়ে লুটপাটের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এছাড়াও অন্যান্য সংগঠন ও পাটকল শ্রমিক-কর্মচারীরা দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সভা, সমাবেশ ও আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের প্রতিবাদ করে লোকসানের জন্য পরিচালন ব্যবস্থা, মাথাভারি প্রশাসন ও দুর্নীতি- লুুটপাট এবং আধুনিকায়ন না করাকেই লোকসানের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের জন্য বরাদ্দ টাকার একটা অংশ দিয়েই পাটকলগুলোর আধুনিকায়ন (বিএমআরআই) করা সম্ভব, যার ফলে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে, এমন দাবিও করা হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিলগুলোর বর্তমান অবস্থার উল্লেখ করে লুটপাটের আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন সবাই। রাষ্ট্রায়ত্ত মিলের বিষয়-সম্পদের দিকেই ব্যক্তিমালিকদের আসল নজর এমন কথাও জোর দিয়ে বলা হয়েছে।

পাটশিল্পসহ রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের লোকসানের পেছনে শ্রমিক-কর্মচারীদের চেয়ে পরিচালন ব্যবস্থার দায় যে বেশি তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ কমই। পুরানো কল-কব্জা ও ব্যবস্থাকে আঁকড়ে ধরে দায়িত্বশীল পদের ব্যক্তিবর্গ নানাভাবে দুর্নীতি করে মিলের লোকসান বাড়িয়েছে, পাশাপাশি ধনসম্পদের অধিকারী হয়েছে। এসব বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে শ্রমিকদের দোষ দেয়ার পেছনে গ্রহণযোগ্য যুক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন।

বিশ্ববাজারে যখন পাটপণ্যের চাহিদা ক্রমবর্ধমান তখন ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্পের বিকাশে আধুনিকায়নের পদক্ষেপই যথার্থ বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তা না করে মহল বিশেষের স্বার্থে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ব্যক্তিমালিকানায় দেয়া কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। বরং একে মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার সাথেই তুলনা করা যায়।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ