রাবিতে শহীদ রিমু দিবস পালিত

  • 12
    Shares

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৈত্রীর নেতা শহীদ জুবায়ের চৌধুরী রিমুর ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী রাবি ও রাজশাহী মহানগর শাখার আয়োজনে ছাত্রমৈত্রীর দলীয় ট্রেন্ট থেকে একটি শোক র‌্যালি বের করা হয়।

র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হলের সামনে রিমুর স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে রিমুর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

পরে ছাত্রমৈত্রীর জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের আন্দোলন সংগ্রাম বেগবান করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখানে গরীব মেহনতি মানুষের শিক্ষা গ্রহণ অনিশ্চিত। বর্তমানে যার যে পরিমাণ অর্থ রয়েছে সে ঠিক সেই পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে। শহীদ রিমুর যে স্বপ্ন ছিলো জনগণের গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কায়েমের মাধ্যমে এবং প্রতিক্রিয়াশীল বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে সার্বজনীন ও বৈষম্যহীন বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা কায়েম করা, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হবে।

সভায় বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সদস্য ও রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু বলেন, শহীদ রিমু বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর নেতা ছিলেন ঠিকই কিন্তু তার আগের পরিচয় হচ্ছে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিগত ১২ বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে প্রগতিশীল ব্যক্তিরা রয়েছেন । কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি  শহীদ রিমুর স্মৃতিশোধ নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয় নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অতিদ্রুত শহীদ রিমুর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

সভা এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কাস পার্টির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা, নগর কমিটির সদস্য তৈয়বুর রহমান, সীতানাথ বণিক, সাবেক ছাত্র নেতা মোহায়মিনুল হক রানা, বিমান চক্রবর্তী। সভার সঞ্চালনা করেন ছাত্রমৈত্রীর মহানগর সাধারণ সম্পাদক সম্রাট রায়হান।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বহিরাগত সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ে শের-ই-বাংলা হলে পরিকল্পিত হামলা চালায় শিবির। শিবির কর্মীদের হামলার শিকার হন হলের ছাত্ররা। এ সময় সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালায় এবং বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর নেতা কর্মীদের খুঁজে খুঁজে হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। আহত অবস্থায় পড়ে থাকা রিমুকে কুপিয়ে হত্যা করে।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ