রাণীনগরে বন্ধ শতাধিক চাতাল

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: দেশের উত্তর জনপদের খাদ্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ধানের বাজার উর্দ্ধমূখী আমদানি কম এবং চালের দরের সমন্বয়হীনতার কারণে প্রায় শতাধিক হাসকিং মিল চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে।

চালকল মালিকরা ব্যবসায় টিকতে না পেরে চাতালগুলো প্রায় দেড় দুই মাস আগে ধীরে ধীরে বন্ধ করায় এর সাথে জড়িত প্রায় দেড় হাজারের মতো নারী-পুরুষ শ্রমিক কর্ম হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অভাবের তাড়নায় এ পেশা ছেড়ে বিভিন্ন হোটেল রেস্তোঁরা বাসা-বাড়ি ও রিকশাভ্যান চালানোসহ কম মজুরির কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

ইরি-বোরা ধান কাটার মৌসুমে অটোরাইস মিলের মালিকরা প্রয়োজন মতো ধান কিনতে পারলেও সেই সময় ধানের বাজার চড়া হওয়ায় হাসকিং চাতাল মালিকরা চাহিদা মতো ধান কিনতে না পারায় তিন মাসের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে চাতালগুলো বন্ধ হতে থাকে।

তারপরও সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ মিলারদের মধ্যে ৭২জন মিল মালিক প্রতি কেজি ৫ থেকে ৬ টাকা লোকসানে সরকারি খাদ্য গুদামে চাল দিয়েছে। এছাড়াও ৯টি আংশিক এবং বাকি ৪২জিন মিল মালিক প্রাকৃতিক দূর্যোগ আর ধানের বাজার উর্দ্ধমূখী হওয়ায় সরকারি খাদ্যগুদামে চাল দিতে পারেনি তাদের বিরুদ্ধে চলছে নানা ধরণের আইনগত ব্যবস্থা।

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলা সদরসহ ছয়টি ইউনিয়নে ছোট বড় মাঝাড়ি ধরনের প্রায় ১৩৪ টি হাসকিং মিল চাতাল রয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য বিভাগের তালিকাভুক্ত আছে ১২৫টি। এসব চাউল কল ব্যবসায়ীরা স্থানীয় ভাবে ধান সংগ্রহসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা জাতের ধান আমদানি করে সিদ্ধ শুকান শেষে মিলে ভেঙ্গে মান সম্পন্ন চাল তৈরি করে নওগাঁর মোকামসহ চাহিদা মোতাবেক দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাক ও নৌপথে সরবরাহ করে।

ইরি-বোরো মৌসুমের ধান কাটা মাড়াইয়ের সময়ে আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং সরকার ঘোষিত ধান এবং চালের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ায় কাটা-মাড়া মৌসুমে ধানের দাম চড়া থাকায় কৃষক একটু দাম বেশি পাওয়ার আশায় ধান গুদামজাত করে রাখে। এ সময় ইরি-বোরো ধানের দাম পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্যগুদামেও ধান কিনতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে ধানের মূল্য চড়া এবং বাজারে আমদানি কম থাকায় চালের বিক্রয় মূল্যের সাথে হিসেব মেলাতে গিয়ে লোকসানের কারণে মিল মালিকরা ব্যবসায় টিকতে না পেরে হাসকিং চাতাল মিলগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

মিলাররা বলছে, আগামী রোপা-আমন মৌসুমের ধান বাজারে আসতে শুরু করলে ধান-চালের বাজারদর কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে জিরা জাতের ধান প্রতি মন ১২ শ টাকা দরে কেনা কেচা হচ্ছে। এই দরে ধান কিনে সিদ্ধ শুকানোর চাল পুনরায় সটার করে বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও প্রতিমন ধানের বিপরীতে ১০০ টাকারও বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীরা জানান।

লেবার সরদার আব্দুল জলিল জানান, আমি একটি মিলে ১৫ জন লেবার নিয়ে কাজ করতাম। মালিকের চালের ব্যবসা লোকসানের কারণে মিল বন্ধ করায় পেটের দায়ে সামান্য টাকার বিনিময়ে খাবার হোটেলে কাজ করছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সীতানাথ ঘোষ জানান, ইরি-বোরো মৌসুম প্রায় শেষের দিকে হওয়ায় বাজারে ধান আমদানি নেই বললে চলে। তারপরও যতটুকু আমদানি হচ্ছে বাজার দর চড়া হওয়ায় চালের মূল্যের সাথে সমন্বয় করলে লোকসানের পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসকিং চাতাল মালিকরা ব্যবসায় টিকতে না পেরে দিনদিন চাতাল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সিরাজুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ধানের আমদানি কম, চালের বাজারে উর্দ্ধমুখি এবং ইরি-বোরো মৌসুমের ধান কাটা মারার পর কয়েক দফা প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে মিলাররা চাহিদা মতো ধান কিনতে না পারায় রাণীনগরে হাসকিং মিলগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ