রাজশাহী বিভাগে কমেছে সংক্রমণের হার


স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিভাগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার কমে আসছে। আগে নমুনা পরীক্ষায় সংক্রমণের হার ১৫ শতাংশের বেশি থাকলেও এখন সেটি কমে ১১ শতাংশে নেমেছে। প্রতিদিন এই হার ওঠানামা করে। তবে ১১ শতাংশের বেশি এখন সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে না।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাজশাহী বিভাগের পাঁচটি পিসিআর ল্যাবে প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ২০ হাজার ১০০ জন করোনা রোগী। এদের মধ্যে ১৮ হাজার ১৩৭ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

তিনি জানান, রাজশাহী বিভাগে করোনায় মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত বিভাগে ৩০৭ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিভাগের বগুড়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগে এ পর্যন্ত বগুড়ায় সর্বোচ্চ ১৮৬ জন মারা গেছেন। এছাড়া অন্য জেলাগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে ৪৪ জন, নওগাঁয় ২১ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪ জন, নাটোরে ১০ জন, জয়পুরহাটে সাতজন, সিরাজগঞ্জে ১৩ জন এবং পাবনায় ১০ জন মারা গেছেন।

রাজশাহী অঞ্চলে যেসব করোনা রোগী শনাক্ত হন তাদের বেশিরভাগই বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। প্রতিটি জেলাতেই করোনা রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নেই বিভাগের ছয় জেলায়। শুধু বগুড়া ও রাজশাহীতে আইসিইউ আছে।

তাই রাজশাহীতে যেন করোনা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়া যায় সে বিষয়ে চেষ্টা চলছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে তারা প্রস্তুত। এই হাসপাতালে ২০৩টি শয্যা কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। রোগীর সংখ্যা যদি ভবিষ্যতে বাড়ে তাহলেও তারা সেবা দিতে পারবেন।

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, করোনা রোগীর সংখ্যা কমে আসছে। আগে যেখানে হাসপাতালে সব সময় ৮০-৯০ জন করোনা রোগী থাকতেন, এখন সেটি কমে ৩০ থেকে ৩৫ জনে নেমে এসেছে। এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কারণে রোগীরা সুস্থ হয়ে উঠছেন।

তিনি বলেন, রামেক হাসপাতালের পাশাপাশি রাজশাহীর খ্রীষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালে প্রথমে করোনা রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে সিলিন্ডারের মাধ্যমে রোগীদের অক্সিজেন দেয়া হতো। এতে সমস্যা হতো। অনেক সময় রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে সেখান থেকে রামেক হাসপাতালে আনা রোগীর জন্য খারাপ হতো। সে কারণে মিশন হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা বন্ধ করা হয়েছে। এখন সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতাল ও রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে সংক্রমণ ব্যাধির চেয়ে রামেক হাসপাতালেই যেন রোগীদের রাখা যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। এই হাসপাতালে মৃত্যুহার দেশের অন্য যে কোন হাসপাতালের চেয়ে কম।

ডা. সাইফুল ফেরদৌস আরও জানান, রামেক হাসপাতালে ২৮টি হাই ফ্লো ন্যাজোল ক্যানোলা এবং ১৫টি অক্সিজেন কনটেনটেটর রয়েছে। আর ওয়ার্ডগুলোতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। আইসিইউ শয্যাও রয়েছে। ফলে এখানে ভাল চিকিৎসা হয়।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য বলেন, সংক্রমণ দিন দিন কমছে। শীতে কী হবে তা বলতে পারছি না। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত, সংক্রমণ বাড়বে না। সাধারণ মানুষের প্রতি উপদেশ- অন্তত মাস্কটা ব্যবহার করতে হবে। তাহলে সংক্রমণ আরও কমে যাবে।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ