রাজশাহী বিভাগের ৪ হাজার ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টাইনে

স্টাফ রিপোর্টার: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে রাজশাহী বিভাগের ৪ হাজার ব্যক্তি এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন করোনা আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আইসোলেশনে আছেন। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস’্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ১০ মার্চ থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত বিভাগের আট জেলায় মোট ৪ হাজার ৪৯৫ জন বিদেশফেরত ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে আনা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৯৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। একজন হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন। আরও ৪ হাজার ৪৯৪ জন বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইন করছেন।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ৪৯১ জনকে ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে আনা হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় ১৩৫ জন, নাটোরে ৫৭ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬১ জন, জয়পুরহাটে ৫০ জন, বগুড়ায় ৫৩ জন, সিরাজগঞ্জে ৭৮ জন এবং পাবনায় ৯১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে আনা হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টায় নওগাঁয় নতুন কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা বাড়েনি। এ জেলায় আগে থেকে ২২৯ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তাদের ১৪ দিন পূর্ণ হয়নি।
স্বাস’্য পরিচালক জানান, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস’ায় কারও জ্বর-সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে আইইডিসিআর-এর মাধ্যমে তাদের করোনার পরীৰা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ থেকে দুই জনকে এবং পাবনা ও নাটোর থেকে একজন করে ব্যক্তির পরীৰা করা হয়েছে। নাটোরের ওই ব্যক্তি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপসি’তি রয়েছে কি না তার ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসি’তি পাওয়া যায়নি। আর জয়পুরহাটে একজন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেৰণে রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে রাজশাহীর সংক্রমণ ব্যধি হাসপাতাল ও ক্যান্সার হাসপাতালে আইসোলেশনের ব্যবস’া করা হবে। এছাড়া বিভাগীয় শহরের তিনটি স্টেডিয়াম ব্যবহার করা হবে। এরই মধ্যে মহিলা ক্রীড়া কমপেৱক্সে ৫০টি শয্যা প্রস’ত করা হয়েছে। এর বাইরে আধুনিক আইসিইউ সুবিধা থাকায় নগরীর বেসরকারি সিডিএম হাসপাতালকে আইসোলেশন সেন্টার করা হচ্ছে।
ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য বলেন, করোনামুক্ত রাখতে হলে রাজশাহীকে লকডাউন করা উচিত। তা না হলে আপাতত সাধারণ মানুষকেই নিজের থেকে লকডাউন হয়ে যেতে হবে। খুব জর্বরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার দরকার নেই। রাজশাহীতে এখন অনেকটাই সেরকম পরিসি’তি তৈরি হয়েছে। গাড়ি চলছে কম। তবে আরও কমাতে হবে। করোনাভাইরাসের কোভিড-১৯ রোগ থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বার বার হাত ধুতে হবে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

শর্টলিংকঃ