রাজশাহী আবার রেশমের রাজধানী হয়ে উঠবে

  • 13
    Shares

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রাজশাহী রেশম কারখানায় আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে। গত রোববার বিকালে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক) উৎপাদন উদ্বোধনকালে খরচ কমিয়ে লাভজনকভাবে রেশম শিল্পকে টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থার কথা বলেছেন।

১৯৬১ সালে শিরোইলে সাড়ে ১৫ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত রেশম কারখানাটি রাজশাহীকে রেশমের রাজধানীতে পরিণত করেছিল। স্বাধীনতার পর ২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার লোকসানের অজুহাতে কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। জনগণের দাবির মুখে কারখানাটি চালু করার উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার।

রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা রেশম বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হবার পর ২০১৮ সালের ১৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে কারখানার ৫টি লুম চালু হয়। পরে আরও ১৪টি লুমে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এই ১৯টি লুমে কাপড় উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পর্যায়ক্রমে আরও ২৩টি লুম চালুর পরিকল্পনার কথা জানা গেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ রেশম বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু। এই স্মৃতি ধরে রেখে রেশম শিল্পকে এগিয়ে নেবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বাংলাদেশের ঐতিহ্য রেশমকে এগিয়ে নিতে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে উন্নতমানের সুতা তৈরি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই অল্প দামে ভালো মানের রেশম বস্ত্র জনগণের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হবে।

রেশম শিল্পকে লাভজনক করার জন্য উন্নতমানের কাপড় উৎপাদনের পাশাপাশি আধুনিক ডিজাইনের ওপর জোর দিতে হবে। রাজশাহী রেশম কারখানাকে একটি মডেল কারখানা হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে এই মডেল অনুসরণ করে অন্যরাও রেশম শিল্পকে এগিয়ে নিতে পারেন, এমন আশাবাদও শোনা গেছে সে অনুষ্ঠানে।

রেশম শিল্পের উন্নয়নের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা জরুরি। তাহলেই অলাভজনক এই শিল্প লাভজনক হয়ে উঠবে। কম খরচে উৎপাদিত উন্নতমানের রেশম সুতা পাওয়া গেলে বিদেশি সুতার ব্যবহার কমে আসবে। এজন্য রেশম বস্ত্রের কাঁচামাল উৎপাদনের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। মানসম্পন্ন তুঁতপাতা ও রেশমগুটি উৎপাদনও নিশ্চিত করা দরকার।
তাহলেই আবারও রাজশাহী রেশমের রাজধানী হয়ে উঠবে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে রাজশাহী সিল্ক।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ