রাজশাহীর উন্নয়নে ৩৬৫৪ কোটি টাকা

সোনালী ডেস্ক: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটি ১ লাখ টাকার নয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।
অনুমোদিত নয়টি প্রকল্পে সরকার দেবে ৮ হাজার ৮৮৬ কোটি ৪৪ লাখ, সংস’ার নিজস্ব অর্থায়ন ২৯৩ কোটি ১৬ লাখ এবং বৈদেশিক ঋণ ৪ হাজার ৪৫৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
নয়টি প্রকল্পের মধ্যে রাজশাহীর রয়েছে দুটি। এ দুটি প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী মহানগর এলাকার উন্নয়নেই রয়েছে ২ হাজার ৯৩১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আর বাঘা ও চারঘাট উপজেলার নদীতীর সংরৰণের প্রকল্পের ব্যয় ৭২২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সিটি করপোরেশন। প্রকল্পে যে সমস্ত উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়িত হবে তার মধ্যে উলেৱখযোগ্য হচ্ছে, ভৌত অবকাঠামোসমূহের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে রাজশাহীকে বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা এবং নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রণীত প্রকল্পটির আওতায় ৫০১ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ/উন্নয়ন, সকল রাস্তায় পানি নিষ্কাশনে ৩৫৬ দশমিক ১৮ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ, ক্রমবর্ধমান নগরায়নের প্রেক্ষাপটে বর্ধিত যানবাহন চলাচল বিবেচনায় মহানগরীর তালাইমারী মোড় থেকে কাঁটাখালী মোড়, নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল থেকে ভদ্রা মোড় এবং বিলসিমলা মোড় থেকে সিটি হাট পর্যন্ত ১৩ দশমিক ০৯ কিলোমিটার সড়ক ৪ লেন সড়কে উন্নীতকরণ, মহানগরীর গুর্বত্বপূর্ণ সড়কে ৪১ দশমিক ৯২ কিলোমিটার ফুটপাত ও ৬২ দশমিক ০৭ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ, মহানগরীর ১৯টি সরকারি খাস প্রাকৃতিক জলাশয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করে বিনোদন পার্কের আদলে নির্মাণ, মহানগরীতে ১৫টি আধুনিক গণশৌচাগার নির্মাণ, ৪৩টি কবরস’ানের অবকাঠামো উন্নয়ন, ৪টি বিনোদন পার্কের উন্নয়ন এবং সিটি বাইপাস মোড় ও ভদ্রা স্মৃতি অমৱ্যান-এ সৌন্দর্যবর্ধক কাঠামো নির্মাণ। এছাড়া সিটি করপোরেশনের ৪টি ওয়ার্ড কার্যালয়, তেরখাদিয়ায় শেখ কামাল সিটি কনভেনশন হল, ধর্মসভার অবশিষ্টাংশ এবং ৪টি কাঁচাবাজার নির্মাণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়াও অ্যানেক্স ভবন ১০তলায় সম্প্রসারণ, ৫০টি স্কুলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং শহিদমিনার নির্মাণ, গুর্বত্বপূর্ণ ৮টি রেলক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ, সিটি গ্যারেজ সম্প্রসারণ, জনসাধারণের নিরাপদ পারাপারের জন্য ১০টি ফুটওভার ব্রিজ, ৩০টি যাত্রী ছাউনি ও গুর্বত্বপূর্ণ সড়কের পাশে ল্যান্ডস্কেপিং কাজ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত আছে। সর্বশেষ প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক সড়ক যন্ত্রপাতি, অ্যাম্বুলেন্স, ২টি লাশ পরিবহন ভ্যান এবং শিশুপার্কের জন্য ১৬ সেট গেমস কেনা হবে। এছাড়া ব্রিজ নির্মাণ, সড়ক আলোকায়ন, যানবাহন কেনা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রকল্পে।
অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘রাজশাহী জেলার চারঘাট-বাঘা উপজেলার পদ্মানদীর বামতীরের স’াপনাসমূহ নদী ভাঙন হতে রক্ষা’ প্রকল্পে ৭২২ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বাঘা-চারঘাট উপজেলায় ৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার পদ্মার তীর সংরক্ষণ করা হবে। তৈরি হবে ১ কিলোমিটার বিকল্প বাঁধ। পুরোনো বাঁধ সংস্কার করা হবে ৮০০ মিটার। এছাড়া ১২ দশমিক ১ কিলোমিটার পদ্মানদী ড্রেজিংও করা হবে। এর ফলে নদীর স্রোত পাড় ছেড়ে দূরে যাবে। ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে বাঘা উপজেলার আলাইপুর, কিশোরপুর, পানিকামড়া, গোয়ালপাড়া, মীরগঞ্জ ও চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর এবং রাওথাসহ আরও কয়েকটি গ্রাম।
নিজের সংসদীয় আসনের উন্নয়নে ২ হাজার ৯৩১ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটনও। ভাঙন রোধে প্রকল্প অনুমোদন করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বাঘা-চারঘাটের সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলমও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

শর্টলিংকঃ