রাজশাহীর আদালতে বাড়ছে এনআই এ্যাক্টের মামলার সংখ্যা

এমআই বাবু: রাজশাহীর আদালতসমূহে বাড়ছে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট এ্যাক্টের মামলা। এই আইনটি এখন মূলত ব্যবহার হচ্ছে অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে। রাজশাহীর বিভিন্ন আদালতে এই আইনে মাসে ২ শ’ টিরও বেশি মামলা দায়ের হচ্ছে ।
আইনজীবীদের সাথে কথা বলে এর সত্যতা জানা গেছে। আইনজীবীরা জানান, প্রতিদিনই এই আইনে রাজশাহীর বিভিন্ন আদালতে দায়ের হচ্ছে এই মামলা। সংশিৱষ্ট সূত্র বলছে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গড়ে অন্তত পৰে প্রতিদিন ১০ টিরও বেশি মামলা দায়ের হচ্ছে এই আইনে। অর্থাৎ মাসে দুই শতাধিক মামলা দায়ের হচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে মামলা দায়েরের সংখ্যা। রাজশাহী আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অতিরিক্ত পিপি আহসান হাবিব রঞ্জু বলেন এমন কোন দিন নাই যেদিন এনআই এ্যাক্টের মামলা ফাইলিং হয় না। আইনজীবী র্বস্তম আলীও এই বক্তব্য সমর্থন করে বলেন এমন কোন দিন নাই যেদিন দায়ের হয় না এনআই এ্যাক্টের মামলা। আইনজীবীরা আরও জানান বিভিন্ন অর্থ লগ্নি প্রতিষ্ঠান ব্যাংক এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস’া এনজিওসমূহ লোন এবং ব্যবসায়ীরা পাওনা অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এই আইনটিকে।
আইনজীবীরা জানান ব্যাংকে অর্থ বা সি’তি না থাকা সত্বেও কোন ব্যক্তি কাউকে চেক প্রদান করলে চেক গ্রহিতা ব্যাংকে চেক জমা দিয়ে টাকা না পেলে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট এ্যাক্ট (এন, আই এ্যাক্ট) এর ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করতে পারেন। চেক দিয়ে প্রতারণা ঠেকাতে এবং মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য এই আইনটি প্রণয়ন করা হলেও বিভিন্ন এনজিও এবং সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণের অর্থ আদায়ের জন্য চেককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। আদালতে বিচারাধীন এন আই এ্যাক্টের মামলার বড় অংশ এনজিও এবং বেসরকারি ব্যাংকের দায়ের করা মামলা। এছাড়া ব্যবসায়ী এবং ব্যক্তিগত পাওনা আদায়েও মামলা করছেন অনেকে। এই আইনে দায়ের করা মামলা প্রমাণ করা সহজ হওয়ার কারণে পাওনাদাররা ঝুকছে এই আইনে মামলা করার জন্য। ফলশ্র্বতিতে বাড়ছে মামলা। যদিও এই মামলাগুলোর বেশির ভাগ এক পর্যায়ে আপোস হয়ে যায়। তবে জেল জরিমানার সংখ্যাও কম নয়। একাধিক সূত্র এবং ভুক্তভোগিরা বলছে এনজিও এবং ব্যাংকগুলো ঋণের বিপরীতে মর্টগেজ (স’াবর সম্পত্তি বন্ধক) বা সিকিউরিটি স্বরূপ স’াবর সম্পত্তির দলিলের পাশাপাশি লোন গ্রহীতার নিকট থেকে স্বাৰর করা ফাঁকা চেক নিয়ে রাখে। ঋণ পরিশোধের নির্দিষ্ট মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বকেয়া পাওনা আদায়ের জন্য চেকে অর্থের পরিমাণ উলেৱখ করে মামলা দায়ের করা হয়।
আইনজীবীরা বলছেন লোনের অর্থ আদায়ের জন্য অর্থ ঋণ আদালতে মামলা দায়েরের বিধান রয়েছে। কিন’ এ ৰেত্রে যথাযথ আইন অনুসরণ করে না সংশিৱষ্ট সংস’াগুলো। এনআই এ্যাক্টে মামলা করে দ্র্বত অর্থ আদায় হওয়ায় এই পন’া অবলম্বন করছে সংস’াগুলো। অভিযোগ রয়েছে পাওনা অর্থের চেয়েও অনেক সময় বেশি অংকের টাকা বসিয়ে দায়ের করা হয় মামলা। চেকে স্বাৰর থাকার কারণে চেকদাতারও করার কিছু থাকে না। এতে করে তাকে হয় আপোসে আসতে হয় নতুবা জেল খাটতে হয়। অন্যদিকে এক শ্রেণির মানুষ প্রতারণার জন্য বিভিন্ন সময় ব্যাংক একাউন্টে অর্থ না থাকা সত্বেও চেক দিয়ে সুবিধা গ্রহণ করে থাকে। সংশিৱষ্ট সূত্র বলছে রাজশাহীর জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন যে মামলা রয়েছে তার একটা বড় অংশই এনআই এ্যাক্টের।
আদালত সংশিৱষ্ট সূত্র জানায় রাজশাহীর আদালতে ডিজিটাল বিজনেস পৱাস’র এমডি আহসানুল আমিন রাজিবের বির্বদ্ধে এই আইনে ১ শ’রও বেশি মামলা রয়েছে। এর বেশ কয়েকটিতে তার সাজাও হয়। যদিও সে বর্তমানে পলাতক রয়েছে। এছাড়াও গোদাগাড়ী এলাকার ইটভাটা মালিক ইব্রাহিম আলী শত শত মানুষকে চেক দিয়ে প্রতারণা করেছে। এবিষয়ে আদালতে তার বির্বদ্ধে অসংখ্য মামলা বিচারাধীন আছে। সে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে বলে সংশিৱষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে গ্রামের দাদন ব্যবসায়ীরা এই আইনটির ফায়দা নিচ্ছে পুরোপুরি।

শর্টলিংকঃ