রাজশাহীর আদালতগুলোয় দীর্ঘায়িত হচ্ছে বিচারকশূন্যতা

বিশেষ প্রতিনিধি: বদলিজনিত কারণে রাজশাহীর আদালতগুলোয় বাড়ছে বিচারক শূন্যতা। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বদলি হয়েছেন ৫ বিচারক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবছর জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে একই সাথে রাজশাহী থেকে বদলি হন ৩ বিচারক। যার মধ্যে রয়েছে রাজশাহীর দুই অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে গত ২৮ জানুয়ারি এই তিন বিচারক তাদের শেষ কর্মদিবস পালন করেন। বদলি হওয়া বিচারকরা হলেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ মজিবর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩ ইমদাদুল হক এবং অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এনায়েত কবীর সরকার।
এর দুই মাসের মাথায় রাজশাহী থেকে বদলি হলেন আরও দুই বিচারক। এরা হলেন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) নুরুল আলম মো. নিপু এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) মেহেদী হাসান তালুকদার। গত রোববার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন এই দুই বিচারক। গতকাল সোমবার বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিজেএম আদালতের নাজির মোশারফ হোসেন এবং সিএমএম আদালতের নাজির সোহেল রানা। এছাড়াও অতিরিক্ত সিএমএম’র পদটিও শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন। অন্যদিকে জেলা জজশিপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুস জহির জানান চলতি মাসের শেষ দিকেই যোগ দিতে পারেন অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এবং এক জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ।
এদিকে একই সাথে ৬ জন বিচারক না থাকায় বিচারাধীন মামলা সমূহে স্থবিরতা দেখা দেবে বলে মনে করছেন আদালত সংশ্লি¬ষ্টরা। আইনজীবীরা বলছেন মহানগর ও জজশিপের শীর্ষ এসব বিচারকের বদলি বিচার প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা আসবে। বিচারক সংকটের কারনে একজন বিচারককে পালন করতে হয় অতিরিক্ত দায়িত্ব। এতে করে বিচার কার্যক্রম হারায় তার স্বাভাবিক গতি। যাতে করে ভোগান্তি বাড়ে বিচার প্রার্থী মানুষের। বিচারক স্বল্পতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে দিনান্তরের মধ্য দিয়ে শেষ হয় মামলার কাজ। সবমিলিয়ে রাজশাহীর বিচারাঙ্গনে এখন বিরাজ করছে বিচারক সংকট।
অন্যদিকে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর আদালতাঙ্গনে। গতকাল সোমবার অনেকটাই ফাকা অবস্থায় দেখা গেছে আদালত চত্বর। কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আইনজীবীসহ আদালতে আসা মানুষজনকে আদালত ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।

শর্টলিংকঃ