রাজশাহীতে সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেললো দুর্বৃত্তরা, চাঁদা দাবি

  • 134
    Shares

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে জমি দখলের চেষ্টায় সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এরপর ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এ অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একটি ভুক্তভোগী পরিবার। জমিটি নিয়ে এর আগে স্থানীয়ভাবে কাউন্সিলর ও থানায় বসা হলেও জমি দখলের চেষ্টাকারী দুর্বৃত্তরা আপস করেননি। এরপর থেকে দুর্বৃত্তরা একের পর এক হুমকি দিয়ে আসছে।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় মহানগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, জমির মালিক শামসুল হকের ছেলে রাজিউল হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ভাই সামিউল ইসলাম রুমেল এবং শাজিউল হাসান রিপন।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, শামসুল হক ১৯৮৫ সালে ৪৫২৮ নম্বর দলিলে ৫ শতাংশ জমি কেনেন (হড়গ্রাম মোজার জে.এল নম্বর ৫১)। সেই জমির খাজনা-খারিজ দিয়ে ভোগ করে আসছেন তিনি। সম্প্রতি ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে সম্পত্তির পূর্ব অংশের ১.২৫ শতক জমি লাইলুন নাহার এবং তার স্বামী আব্দুল হামিদ নিজেদের বলে দাবি করেন।

বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার উভয়পক্ষ রাজশাহী মহানগরীর দুই নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের সাথে বসেন। কাউন্সিলর বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। কিন্তু পরক্ষণেই লাইলুন নাহার এবং তার স্বামী আব্দুল হামিদ কাউন্সিলরের সিদ্ধান্ত মানেন নি। পরে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বসা হয়। ওই থানার এসআই তাজউদ্দিন তদন্ত সাপেক্ষে আবার ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে মিমাংসার জন্য গত ১৫ মার্চ উভয়পক্ষকে নিয়ে বসেন। এরপরে সরেজমিনে থানার পুলিশ ও কাউন্সিলর উপস্থিত থেকে মাপযোগের জন্য ২৯ মার্চ দিন ধার্য্য করা হয়।

এই অবস্থায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম গত ২৯ মার্চ সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য অনুমতি দেন। প্রাচীর নির্মাণের দিন বিকেল ৫টার দিকে আব্দুল হামিদের ছেলে আতিকুল ইসলাম এবং মাসুদ পারভেজের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী এসে প্রাচীর ভেঙে ফেলে। এসময় গালিগালাজ করে এবং গলায় অস্ত্র (হাসুয়া, রামদা ইত্যাদি) ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। ঘটনার দিন বিষয়টি নিয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা (মামলা নম্বর-৩৫) করা হয়েছে। তবে বিষয়টি মিমাংসার জন্য বিভিন্নভাবে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে তারা।
বিষয়টি নিয়ে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জমির বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকদফা মিমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু লাইলুন নাহার এবং তার স্বামী আব্দুল হামিদ আপস করেন নি। তারা জোরপূর্বক শামসুল হকের সীমানা প্রাচীর ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে ভেঙে ফেলেছে।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল হামিদের ছেলে আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সীমানা প্রাচীর ভাঙার সাথে যুক্ত না। কে বা কারা প্রাচীর ভেঙেছে সেটিও বলতে পারব না। আর ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগটিও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ