রাজশাহীতে সামাজিক দূরত্ব মানছেন না অনেকেই

স্টাফ রিপোর্টার: করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে মানুষকে ঘরে রাখার জন্য চলছে সাধারণ ছুটি। করোনা আতঙ্কে দেশজুড়ে সবকিছু অঘোষিত লকডাউন থাকলেও রাজশাহী নগরীর বাজারগুলোর চিত্র ভিন্ন। মুখে মাস্ক থাকলেও একে অপরের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বাজার করছেন। বাজার করতে এসে নিরাপদ দূরত্বের তোয়াক্কা করছেন না নগরবাসী। আবার বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের কার্যালয়ের সামনে সহায়তার খাদ্যদ্রব্য নিতে মানুষের জটলা লেগেই থাকছে। নায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতেও ডিলারের দোকান এবং ট্রাকের সামনে থাকছে দীর্ঘ লাইন।
মঙ্গলবার নগরীর সাহেবাজার, লক্ষ্মীপুর, তালাইমারীসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। বাজার ঘুরে দেখা যায়, করোনা থেকে রক্ষায় নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মানছেন না কেউ। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে শারীরিকভাবে একে অন্যের তিন ফুট দূরত্বে অবস’ান করতে বলা হলেও সেটা মানছে না ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই। তবে কেউ কেউ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পারছে না।
বিকালে নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ের সামনে সহায়তার খাদ্যসামগ্রী নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অন্তত ৩০০ নারী-পুর্বষ। স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। কাউন্সিলরের কার্যালয়ের সামনে রাস্তার বিপরীত দিকে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করছিলেন ডিলার। সেখানেও একই অবস’া। হুড়োহুড়ি করে পণ্য কিনছিলেন নারীরা।
নগরী ঘুরে দেখা গেছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বিভিন্ন জর্বরি পণ্যের দোকানের সামনে গোল চিহ্ন একে দেয়া হয়েছে। কিন’ বেশিরভাগ লোকজনই নির্দিষ্ট স’ানে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন না। সকালে খাদ্য সহায়তা পেতে নগরীর কুমারপাড়ায় নগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সমেন ভিড় জমিয়েছিলেন অন্তত ৫০০ নারী। গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে এমন ভিড় দেখে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ হবে না বলে জানিয়ে দেন। ঘণ্টা দুয়েক এভাবে লাইনে দাঁড়ানোর পর নারীরা চলে যান।
বিকালে সাহেববাজারে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগেই কিছু বাজার করেছিলাম সেগুলো দিয়ে এ কয়েকদিন চললাম। ফ্রিজে কোনো মাছ, মাংস ও কাঁচাবাজার নেই। তাই বাধ্য হয়ে বাজারে এসেছি। কিন’ সারাদেশের চিত্র একরকম আর বাজারে তার পুরোটাই উল্টো দেখছি। নিরাপদ দূরত্ব কেউ মানছেন না। গায়ে গা ঘেঁষে বাজার করছেন। একটু সরতে বললে আড়চোখে তাকাচ্ছেন এতে করে নিজেই বিব্রত হচ্ছি। কেউ কেউ বলছেন এতোই যেহেতু ভয় তাহলে বাজারে না আসলেই হয়।
হাবিবুর রহমান বলেন, করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। তাই এ ক্ষেত্রে সরকারকে আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। বাজার করতে এসে নিরাপদ দূরত্ব মানছেন না নগরবাসী।
অন্যদিকে বিক্রেতারা কেউ সরকারি নির্দেশনা মানছেন না। ক্রেতা পেয়েই খুশি তারা। ক্রেতাদের ভিড়ে করোনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে এড়িয়ে যাচ্ছেন তারা।
এদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মূল সড়কগুলোতে জনসমাগম কম থাকলেও অলিগলিতে বিভিন্ন বয়সী লোকের আড্ডা। নিয়ম রক্ষায় মাস্ক অনেকে গলায় ঝুলিয়ে করছেন ধূমপান। সামাজিক দূরত্ব বলতে কিছুই মানছেন না তারা। আইন-শৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনী একটু নমনীয় হওয়ায় এমন পরিসি’তির তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, জনসমাগম ঠেকাতে টিম গঠন করে অভিযান চলছে। তারা মানুষকে বাড়িতে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শর্টলিংকঃ