রাজশাহীতে মুজিব শতবর্ষ নাট্যোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে মঞ্চস্থ হয়েছে নাটক ‘বাতিঘর’। তিনদিনব্যাপী ‘মুজিব শতবর্ষ নাট্যোৎসব’ এর প্রথম দিন মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী অবলম্বনে রচিত এই নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে এই নাট্যোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে একটি নৃত্যালেখ্যর মাধ্যমে উৎসব উদ্বোধন করা হয়। এতে অংশ নেন নৃত্যশিল্পী ল্যাডলী মোহন মৈত্র ও আলো মৈত্র। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে উৎসবের উদ্বোধন করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

এ সময় তিনি বলেন, নাটক সমাজ পরিবর্তনের একটি হাতিয়ার। কবিতা যদিও সাহিত্যের সবচেয়ে সর্বোকৃষ্ট একটি মাধ্যম। কিন্তু এর মাধ্যমে শুধু উচ্চ শিক্ষিত মানুষকে জাগানো সম্ভব। তবে নাটকের মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরে সকল শ্রেণির মানুষকে সচেতন করা যায়। এ জন্য নাটক হচ্ছে সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী একটি মাধ্যম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ উৎসব নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর জীবন আদর্শকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘বাতিঘর’ নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন আনোয়ারুল ইসলাম। অভিনয়ে অংশ নেন গোলাম মোর্শেদ, মনোয়ার হোসেন, আতাউর রহমান, মোকসেদ আলী, মতিউর রহমান, খালেদা আক্তার, মাহমুদ হাসান, সবুজ আযম, আলমগীর হোসেন, আনোয়ার হোসেন, সাজু আহমেদ, জান্নাতুল রাব্বি, কাজল আক্তার ও কবিতা। নাটকের পটভূমি রচিত হয়েছে একটি থিয়েটারের কাহিনী নিয়ে।

থিয়েটারে কী নাটক করা হবে এ নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানে না এ রকম একজন তরুণী এসে বলেন, বারবার একই মুক্তিযুদ্ধ, একই রাজাকার নিয়ে কেন নাটক হবে। নতুন কোনো কাহিনী নিয়ে হোক। এ সময় একজন মুক্তিযোদ্ধা কথা বলতে বলতে তাদের চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দেন। ফ্ল্যাস ব্যাকে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। উঠে আসে একাত্তরে রাজাকারদের খুন, ধর্ষণ, লুটপাটের চিত্র। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের মহিমা ফুটে ওঠে। শেষে সবার ভুল ভেঙে যায়। সিদ্ধান্ত হয় বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই নাটক হবে।

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বুধবার রয়েছে কামারুল্লাহ্ সরকার ও নিতাই কুমার সরকার রচিত রাজশাহী থিয়েটার প্রযোজিত নাটক ‘পথিকৃৎ’। নাটকটির নির্দেশনাও দিয়েছেন কামারুল্লাহ সরকার। তৃতীয় দিনে পরিবেশিত হবে বিমল বন্দোপাধ্যায় রচিত ও মামুন উর রশিদ নির্দেশিত রাজশাহী সাংস্কৃতিক সংঘ প্রযোজিত নাটক ‘একটি অবাস্তব গল্প’।

করোনাকালে সীমিত দর্শকের উপস্থিতিতে রাজশাহীতে উৎসবটি উদযাপিত হচ্ছে। কোন দর্শনীর বিনিময় ছাড়াই সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে উৎসবটি। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ছয়টায় উৎসব শুরু হবে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ