রাজশাহীতে চোরের উপদ্রব


স্টাফ রিপোর্টার: করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অনেকে আগেই শহর ছেড়ে গ্রামে গেছেন। অনেকে আবার এখন ঈদ করতে গেছেন গ্রামের বাড়ি। শহরে ফাঁকা রয়েছে ভাড়া বাড়ি। এসব বাড়িতে হানা দিচ্ছে চোর।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির শুরুর দিক থেকেই রাজশাহী মহানগরীতে দেখা দিয়েছে চোরের উপদ্রব। শুধু বাসা-বাড়ি নয়, অফিস এবং দোকানপাটেও ঘটছে চুরির ঘটনা। ব্যস্ততম এলাকা থেকেও গায়েব হয়ে যাচ্ছে মোটরসাইকেল। পুলিশ বলছে, তারা চোরদের ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে চোরেরা হানা দিয়েছে। নগরীর বোসপাড়া এলাকায় সোনালী সংবাদের সম্পাদক মো. লিয়াকত আলীর বাসার নিচতলা ভাড়া নিয়ে সম্প্রতি এই কার্যালয়টি করা হয়েছে।

রাত ৩টার দিকে চোরেরা কাউন্সিলরের কার্যালয়ের দুটি ঘরের দুটি জানালা ও জানালার গ্রিল ভেঙ্গে ফেলে। এছাড়া একটি বাথরুমের ভেন্টিলেটরের গ্রিল ভাঙা হয়। রাত ৩টার দিকে বাসার দোতলা থেকে শব্দ পেয়ে ঘুম ভেঙ্গে যায় মো. লিয়াকত আলীর। তিনি উঠে লাইট অন করেন। বিষয়টি টের পেয়ে চোরেরা পালিয়ে যায়। এ কারণে তারা তেমন কিছু নিয়ে যেতে পারেনি।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, চোরেরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ে যেতে পারেনি বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। তারপরও কিছু খোয়া গেছে কিনা সেটি দেখা হচ্ছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সজাগ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আশপাশের এলাকার মেসগুলোতে বেড়েছে চোরের উপদ্রব। বিশ^বিদ্যালয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার সুযোগে চোরেরা সেদিকে উপদ্রব শুরু করেছে। গত দুই মাসে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর ও স্টেশন বাজারের কয়েকটি মেসে চুরর ঘটনা ঘটেছে।

গত ১৪ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজার এলাকার এক মেসের ৮টি তালা ভেঙ্গে সমস্ত মালামাল চুরি হয়েছে। এমনকি চোরদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটও।

ওই মেসের ভুক্তভোগীদের মধ্যে সমাজকর্ম বিভাগে শিক্ষার্থী সুজন আলী জানান, হঠাৎ করে ছুটির ঘোষণার কারণে বাসায় পড়ার জন্য কয়েকটা বই ছাড়া আর কিছুই আনিনি মেস থেকে। গত ১৫ তারিখ আমার ফোনে এক অপরিচিত লোক ফোন করেন। ওই লোকটি জানান যে সারদার কোনো এক পরিত্যক্ত জায়গায় আমার সার্টিফিকেট ও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখি যে ওইগুলো সব আমারই কাগজপত্র। এরপর আমি তাৎক্ষণিক মেস মালিককে ফোন দিয়ে বিষয়টি অবহিত করি। ঘটনার একদিন পরে আমার কয়েকজন মেসমেট গিয়ে দেখে কিছু আর অবশিষ্ট নেই ফ্যান, টিভি, লাইট, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বইখাতা, পোশাক, লেপ তোষক এমনকি টিউবওয়েলের মাথাটাও খুলে নিয়ে গেছে চোরেরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচন্ডির মহসীন মেসে বসবাসকারী রাবি দর্শন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী তৌহিদুল হক তুহিন বলেন, হঠাৎ ছুটির ঘোষণার কারণে আমি আমার সব কাগজপত্র ট্রাংকে সাবধানে রেখে গিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকদিন পরই মেসে চুরির ঘটনার শিকার হই। আমার ট্রাংকসহ লাগেস, লেপ-তোষক, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র চুরি হয়েছে। আমার সার্টিফিকেটগুলোও রাজশাহীর ওই মেস তো দূরের কথা আরেকটি উপজেলা সারদায় গিয়ে পাই। আমরা ১৬ জন একই মেসে থাকি। আমার রুমমেটের সার্টিফিকেট এখনও পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে এমন একের পর এক চুরি সত্যিই দুঃখজনক।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, করোনা পরিস্থিতিই এমন অবস্থার কারণ। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই বেকার হয়ে গেছেন, কর্মহীন হয়ে গেছেন, তাদের আয়ের কোন পথ নেই, যদি কোন ব্যক্তির কর্মসংস্থান না থাকে, সে যদি বেকার হয়ে যায়, তার রুটি রুজীর ব্যবস্থা না থাকে, তখন তার নৈতিক স্খলন হতে পারে এবং সে অপরাধের সাথে জড়িত হয়। তবে এসব চোরদের ধরার ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। নগরীতে পর্যাপ্ত পুলিশি পাহারাও রয়েছে। এরপরও দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ