রাজশাহীতে বেড়েছে আমনের আবাদ

কাজী নাজমুল ইসলাম: ধানের ভাল দাম থাকায় রাজশাহীর চাষিরা আমনের আবাদ বাড়িয়েছেন। এতে কৃষি বিভাগ এখানে আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে।

আমনচাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহীর চাষিরা এখন আমন আবাদের যত্ন নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখানে চাষিরা সাধারণত আমন চারা তৈরি ও রোপণ করেন বৃষ্টির পানিতে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে আষাঢ় মাসে এই অঞ্চলে কাক্সিক্ষত বৃষ্টি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বেকায়দায় পড়েন আমনচাষিরা। পানি না থাকায় অনেক চাষি সেচ দিয়ে বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ শুরু করেন। পরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে এই অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেয়।

এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবেই শুধু রাজশাহী জেলায় আউশ ধান, পান, সবজি, মরিচ ও আমনের বীজতলার ক্ষতি হয় প্রায় ৪০ কোটি টাকার। বন্যার পানি নেমে ও অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা কমে যাওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং ধানের ভাল দাম থাকায় চাষিরা নতুন করে আমনচাষে ঝুঁকে পড়েন। গতবছর এই সময় প্রতিমণ ধানের দাম ছিল ৮ থেকে ৯ শ টাকা মণ। এবার সেই ধান বিক্রি হচ্ছে ১১ থেকে ১২ শ টাকা মণ। চাষিরা আউশের ক্ষতি আমনে পুষিয়ে নিতে আবাদ বৃদ্ধি করায় এবার রাজশাহী জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পবার কর্ণহার এলাকার চাষি জাইদুর রহমান জানান, এবার আউশ মৌসুমে জলাবদ্ধতায় অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে বিভিন্ন এলাকায় এখনও পানি জমে আছে। সরকার চাষিদের বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য দিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করায় চাষিরা ধানের ভাল দাম পাচ্ছে। আমনেও ভাল দাম পাবার আশায় তার এলাকার চাষিরা আমন আবাদ বাড়িয়েছে। আবাদও এখন পর্যন্ত ভাল আছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শামছুল হক বলেন, সরকারি নানা উদ্যোগে ধানের ভাল দাম থাকায় রাজশাহীতে আমন আবাদ এবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যা ও জলাবদ্ধতার পানি নেমে যাবার পর চাষিরা এখনও আমনের চারা রোপণ করছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও বাগমারার ১ শ জন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিকে আমনের ভাসমান বীজতলা তৈরি করে দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমনের আবাদ ভাল আছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে থেকে আমন চাষিদের সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার রাজশাহীতে আমনচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। এখন পর্যন্ত আবাদ ৭৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হবে। গত বছর আমন আবাদ হয়েছিল ৭৬ হাজার ২৫৫ হেক্টরে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ