রাজশাহীতে পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৪

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সংঘবদ্ধ অপরহণকারীচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার সকালে তাদের পবা উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পবা থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বিকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অপহরণের শিকার ব্যক্তি হলেন, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জাহানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হক (৪৩)। আর গ্রেপ্তারকৃত অপহরণকারীচক্রের চার সদস্য হলেন- পবা উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের নার্গিস নাহার (৫৫) ওরফে হেলেন, রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানার নওদাপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩০), বোয়ালিয়া থানার অলোকার মোড় এলাকার আতিকুর রহমান বাপ্পী (২৮) এবং চন্দ্রিমা থানার হজোর মোড় এলাকার হামিম আল ফজলে নূর ওরফে শুভ্র (২৮)।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আবদুল হক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার চাচাকে দেখতে যান। এসময় সেখানে অপহরণকারীচক্রের সদস্য নার্গিস নাহার ওরফে হেলেনের সাথে তার পরিচয় হয়। এরপর হেলেন আবদুল হকের কাছে তার মোবাইল ফোন নম্বর নেন। এর পরের দিন ২০ নভেম্বর শুক্রবার সকাল থেকে হেলেন বেশ কয়েকবার আবদুল হককে ফোন দেন। দুপুর ১২টার দিকে হেলেন রাজশাহী মহানগরীর বায়া বাজারে আবদুল হককে আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।

আবদুল হক হেলেনের ডাকে সাড়া দিয়ে বায়া বাজারে আসেন। এসময় হেলেন কৌশলে একটি অটোরিকশায় আবদুল হককে উঠিয়ে নেন। এরপর আবদুল হককে নিয়ে হেলেন তার পবা উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে চলে যান। এরপর সেখানে হাজির হন অপহরণকারীচক্রের আরও তিন সদস্য রফিকুল, বাপ্পী ও শুভ্র। তারা আবদুল হককে নগ্ন করে বেঢ়ড়ক মারধর করেন।

একপর্যায়ে অপহরণকারীচক্রের সদস্যরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে আবদুল হকের স্ত্রী রহিমা বেগমের কাছে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে একলাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় তাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হবে, নতুবা মাদক মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়া হবে।

এ সময় আবদুল হকের স্ত্রী তার নম্বরে ২০ হাজার টাকা বিকাশে দেন। অপহরণকারীরা আবদুল হকের মোবাইল ফোন নিয়ে বাইরে গিয়ে ২০ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করেন। এরপর গত রোববার ২১ নভেম্বর শনিবার রাত নয়টার দিকে অপহরণকারীরা পবা উপজেলার করমজার মোড়ে মোটরসাইকেলে করে আবদুল হককে নামিয়ে দেয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ অপহরণকারীচক্রের চার সদস্যকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে।

আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তার চার অপহরণকারী সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এদের বিরুদ্ধে মহানগরীর চন্দ্রিমা থানায় আরও দুটি মামলা রয়েছে। অপহরণের ঘটনায় ভুক্তভোগী আবদুল হকের স্ত্রী রহিমা বেগম পবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অপহরণকারীচক্রের চার সদস্যকে অধিকতর জিঙ্গাসাবাদের জন্য আদালতে তাদের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ