রাজশাহীতে জন্ম ও মৃত্যুসনদ পেতে হয়রানি

  • 69
    Shares

স্টাফ রিপোর্টার: মূল সার্ভারে ত্রুটি দেখা দেয়ায় সময়মত জন্ম-মৃত্যুসনদ দিতে পারছেন না ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা। নানান কাজের জন্য এই সনদ নিতে রাজশাহীর বিভিন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে দিনের পর দিন ধর্ণা দিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি প্রায় সকল সেবা নিতে জন্ম ও মৃত্যু সনদ প্রয়োজন। শিশুর স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশদেরও প্রয়োজন পড়ে এই সনদের। এই সনদ ছাড়া বর্তমান সময়ে সরকারি সেবা পাওয়া প্রায় অনিশ্চিত। সম্প্রতি সরকার জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে এই সনদ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছে।

সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা। কিন্তু বর্তমানে সমস্যা দেখা দিয়েছে মূল সার্ভারে। রাজশাহীতে প্রায় ২ মাস যাবত কাজে গতি পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। রাতের বেলা কিছুটা সংযোগ পাওয়ায় অনেক চেষ্টার পর জন্মসনদ যদিও বা কিছুটা হচ্ছে, কিন্তু মৃত্যুসনদ দিতে পারছেন না। এরফলে দিনের পর দিন মানুষকে সনদ নেবার জন্য হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

নওহাটা পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, সার্ভারে ত্রুটির কারণে আমরা জন্ম ও মৃত্যুসনদ সময়মত দিতে পারছি না। এতে সনদ নিতে আসা মানুষ দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক চেষ্টা করে জন্মসনদ দেয়া গেলেও মৃত্যুসনদ দেয়া যাচ্ছে না। প্রায় ২ মাসে ২০টির মত মৃত্যুসনদ নেবার আবেদন জমা পড়েছে। এগুলোর জন্য তাদের ওয়ারিশানসহ ব্যাংকের কাজ আটকে আছে। কিন্তু সার্ভারে ত্রুটির কারণে এগুলো দেয়া যাচ্ছে না। কবে ঠিক হবে, তাও ঢাকা থেকে সংশ্লিষ্টরা জানাতে পারছেন না।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শাহানা আকতার বলেন, মূল সার্ভারে ত্রুটির কারণে জন্ম ও মৃত্যুসনদ তৈরিতে সমস্যা হচ্ছে। আমার দপ্তরেও অনেকগুলো সংশোধনের কাজ আটকে আছে। এটি নিয়ে আমি ঢাকায় যোগাযোগ করেছি। তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি ঠিক করার চেষ্টা করছে।

চারঘাট প্রতিনিধি জানান, চারঘাটেও সার্ভারে ত্রুটির কারণে জন্মসনদ ও মৃত্যুসনদ নিতে ভোগন্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। চারঘাট উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র রয়েছে। এসব সেবা কেন্দ্র থেকে সাধারণ মানুষ জন্মসনদ ও মৃত্যুসনদ নিতে প্রতিদিন ভিড় জমান। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সার্ভারের ত্রুটির কারণে অনেক সময় ফিরে যেতে হয়। বর্তমানে জন্মসনদ ছাড়া কোন কাজই সম্ভব নয়।

বিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে এমন কি বিয়ের সময় জন্মসনদ না হলে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার বিয়েও রেজিস্ট্রি করছে না। যার কারণে জন্মসনদ এখন জনগুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে চারঘাট পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাবুদ আলী বলেন, দিনের বেলায় কোনক্রমেই সার্ভার পাওয়া যায় না। যার কারণে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়।

ইউসুফপুর ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টারের দায়িত্বে নিয়োজিত মনজুর রহমান বলেন, সার্ভারে জটিলতার কারণে জনগণকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। চারঘাট ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্রে নিয়োজিত শরিফুল ইসলাম বলেন, সার্ভারের কারণে আমরা সেবা দিতে অসুবিধায় পড়ছি। এতে করে জনগণও চরম কষ্ট পাচ্ছে। শলুয়া ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্রে নিয়োজিত আরিফুল ইসলাম ও সরদহ ইউনিয়নের তুষার বলেন, দিনের বেলায় সার্ভারে সংযোগ থাকে না, যার কারণে রাত জেগে অনেক কষ্ট করে কাজ করতে হয়।

এ ব্যাপারে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা সামিরা বলেন, সার্ভারে জটিলতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তাদের চরম কষ্ট ভোগ করতে হয়। আর এ কারণেই জনসাধারণকে সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। কতদিনে এ সমস্যার সমাধান হবে তা বলা খুব কঠিন।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ