রাজশাহীতে কৃষি সাংবাদিকতায় দক্ষতা উন্নয়নে কর্মশালা

স্টাফ রিপোর্টার: কৃষি সাংবাদিকতায় দক্ষতা উন্নয়নে রাজশাহীতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার নগরীর একটি রেস্তোরাঁর সম্মেলন কক্ষে ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশ (এফএফবি) দিনব্যাপী এই কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। ‘কৃষি বিষয়ক সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ২৭ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিলো কৃষিতে জীবপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং এর তথ্য ও যোগাযোগ সম্পর্কিত বিষয় সম্পর্কে সাংবাদিকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষিত করা। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের বিশিষ্ট সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞগণ কর্মশালায় সেশান পরিচালনা করেন।

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, একুশ শতকের কৃষি মানেই প্রযুক্তির ছোঁয়া। বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন ফসল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন। বিজ্ঞানের আশীর্বাদে এখন ফসল বোনা থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে সহজসাধ্য করে তুলেছে। কিন্তু অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো নিয়ে সঠিক তথ্যের অভাবে জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। কারণ এ সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞানের অভাবে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অনেক বিজ্ঞানমনস্ক মানুষও এই প্রযুক্তি নিয়ে বিভ্রান্ত হন। অথচ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে হরহামেশাই আমরা জীবপ্রযুক্তি উদ্ভাবিত খাবার গ্রহণ ও পণ্য ব্যবহার করছি।

বিজ্ঞানীদের মতে নিকট ভবিষ্যতে মানুষের চাহিদামতো নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার যোগান দিতে জৈবপ্রযুক্তির ব্যবহার হয়ে উঠবে অন্যতম উপায়। তবে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো নিয়ে সঠিক তথ্যের অভাবে জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। কারণ এ সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞানের অভাবে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অনেক বিজ্ঞানমনস্ক মানুষও এই প্রযুক্তি নিয়ে বিভ্রান্ত হন। অথচ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে হরহামেশাই আমরা জীবপ্রযুক্তি উদ্ভাবিত খাবার গ্রহণ ও পণ্য ব্যবহার করছি। বাংলাদেশের কৃষকরা ইতোমধ্যে একটি জিন পরিবর্তিত ফসল, কীট প্রতিরোধী ‘বিটি বেগুন’ গ্রহণ করেছে। বিটি বেগুন চাষের ফলে কীটনাশক ব্যবহারের মাত্রা প্রায় ৫১ ভাগ কমেছে। ফলে বেগুন উৎপাদনের হার ও কৃষকদের আয় আগের তুলনায় প্রায় ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন বলেন, কৃষি জীবপ্রযুক্তিকে সফলভাবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে এর গ্রহণযোগ্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ফলে প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বাস্তবায়নের পাশাপাশি কৃষক ও গ্রাহকরা এর থেকে কীভাবে উপকৃত হতে পারে তা নির্ভর করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করার উপর। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ খাদ্য নিরাপত্তা ও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কৃষিক্ষেত্রের উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত পৃথিবী গড়তে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

কর্মশালায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাতিল সিরাজ তার মূল প্রবন্ধে বলেন, বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। সামাজিক সচেতনতা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য সঠিক সংবাদ প্রকাশ আমাদের টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক সুফল বয়ে আনবে। তিনি বাংলাদেশর অন্যান্য জেলায়ও এরকম আরও প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় বণিক বার্তার ডেপুটি সিটি এডিটর শাহানুর শহীদ শাহীন ও এনটিভির সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মাকসুদুল হাসানও আলাদা সেশান পরিচালনা করেন। পরে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম ও ল্যাব পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত প্রাণবন্ত এই কর্মশালা শেষ হয়।

ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশ বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান যার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনে জীবপ্রযুক্তিসহ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ক সচেতনতা বাড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কর্নেল অ্যালায়েন্স ফর সাইন্স’ এর পৃষ্ঠপোষকতায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশ।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ