রাজশাহীতে কঠোর হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনশূন্য পথঘাট

স্টাফ রিপোর্টার: জনসমাগম বন্ধ করতে রাজশাহীতে শুরু হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর টহল। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একজন মেজরের নেতৃত্বে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও মাস্ক পরাসহ সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাইকিং করছেন সেনাসদস্যরা। পাশাপাশি নগরীতে টহল দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরাও।
গত দুই দিন ধরে শহর একেবারেই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। গণপরিবহনও বন্ধ। দু’একটি অটোরিকশা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘরে থাকার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু গতকাল শুক্রবার সকালে কিছু তরুণকে বাইরে দেখা গেছে। এ সময় মাস্ক পরে না থাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের রাস্তায় অবস্থানরত যুবকদের কান ধরে উঠবস করাতেও দেখা গেছে। তাদের ঘর থেকে বের না হবার কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের শক্ত পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নগরবাসীকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে এখনও মাইকিং করা হচ্ছে। করোনা প্রতিরোধে নগরীর মোড়ে মোড়ে চলছে দিনভর মাইকিং। গতকাল জুম্মার নামাজে নগরীতে সীমিত সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে নামাজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন মসজিদের ইমামরা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর দড়িখরবোনা মোড়ে চায়ের স্টল খোলা রাখার অপরাধে চা বিক্রেতাদের কেটলি কাপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে গেছেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় ওই এলাকার চা বিক্রেতারা পুলিশ সদস্যদের দেখে পালিয়ে যান। এছাড়া সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন যুবককে আড্ডা দেবার অপরাধে কান ধরে উঠবস করানো হয়।
এদিকে গতকাল সকালে নগরীর অলকার মোড়, গণকপাড়া, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, ল²ীপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় অবস্থানরত যুবকদের কান ধরে উঠবস করায়। এসময় মৃদু লাঠিচার্জও করা হয়। এছাড়া নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট রাস্তায় অবস্থান করার অপরাধে র‌্যাব সদস্যরা কয়েকজন যুবককে কান ধরে উঠবস করায়।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগে খুশি সাধারণ মানুষ। নগরীর হড়গ্রাম এলাকার সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক শাহাদত হোসেন বলেন, পুরো বিশ্ব এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এসময় মাইকিং করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বার বার ঘর থেকে বের হবার জন্য নিষেধ করা হচ্ছে। তারপরেও মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ ব্যাপারে শক্ত পদক্ষেপ নেয়ায় আমরা খুশি হয়েছি।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোড়ে মোড়ে টহল দিচ্ছেন। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হলেই তাকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। ঘর থেকে যারা বিনাপ্রয়োজনে বের হবেন তাদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আরও কঠোর হবেন বলে মন্তব্য করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে শহরের সকল মার্কেট ও দোপানপাট বন্ধ। তবে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা আছে। সিটি করপোরেশনের তরফ থেকে নগরীর রাস্তায় গাড়ির মাধ্যমে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। কিছুক্ষণ পরপরই মাইকে বলা হচ্ছে, সকলে নিজ ঘরে অবস্থান করুন। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হবেন না। বাইরে অবস্থানকালে মুখে মাস্ক ও হাতে গøভস ব্যবহার করুন। একাধিক মানুষ একসঙ্গে চলাচল করবেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। হাঁচি-কাশিতে শিষ্টাচারসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, গত বুধবার থেক্ইে নগরী বেশ ফাঁকা হয়ে গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকতে যে অনুরোধ বারবার করা হচ্ছিল, তা এখন বেশ কার্যকর। আশা করি- মানুষ আরও সচেতন হয়ে উঠবে এবং সকলে মিলে করোনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

শর্টলিংকঃ