রাজশাহীতে উধাও করোনার আতঙ্ক!


শিরিন সুলতানা কেয়া: সারাবিশ্বে এখন আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। অদৃশ্য এই শত্রুর সাথে মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রতিটি মানুষকে। প্রাণঘাতি এই ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে বলা হচ্ছে। তবে এবার রাজশাহীতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

এ শহর থেকে যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে করোনার আতঙ্ক। বেশ কিছুদিন থেকেই রাজশাহীতে সামাজিক দূরত্ব না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কমছে সচেতনতাও। সাধারণ মানুষ বলছেন, জীবীকার তাগিদেই তাদের এভাবে চলতে হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই পরছেন না মাস্ক। এর ফলে রাজশাহীতে দিন বাড়ছে করোনার সংক্রমণ।

গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত রাজশাহী জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭৫১ জন। এদের মধ্যে মহানগরীতেই আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ১৩৮ জন। মহানগরীর বাইরে বাঘা উপজেলায় ৬০ জন, চারঘাটে ৫৩ জন, বাগামারায় ৬১ জন, মোহনপুরে ৮১ জন, তানোরে ৭৩ জন, পবায় ১৩৬ জন, গোদাগাড়ীতে ৫৯ জন এবং পুঠিয়া ও দুর্গাপুরে ৪৫ জন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১২ জন। আর মারা গেছেন ২২ জন। এখনও চিকিৎসাধীন ১ হাজার ৭১৭ জন।

জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন করে জেলায় করোনা রোগী বাড়ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও কমেছে সচেতন মানুষের সংখ্যা। কিছুদিন থেকেই রাজশাহীতে সামাজিক দূরত্ব মানতে মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে অনীহা। কোরবানির পশুর হাট থেকে বিপণী বিতান পর্যন্ত কোথাও সামাজিক দূরত্ব দেখা যাচ্ছে না। এখানে-ওখানে চলছে আড্ডা।

করোনা পরিস্থিতিতে গত ১৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলাকে লকডাইন ঘোষণা করে প্রশাসন। এরপর রাজশাহীর চিত্র পাল্টে যায়। ব্যস্ত এই নগরীতে দেখা যায় সুনশান নীরবতা। লকডাইন তুলে নেওয়ার পর থেকেই রাজশাহীতে আবারও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। শহরও ফিরেছে চনা রূপে।

রাজশাহী জেলা এখনও রেড জোনে থাকলেও করোনার আতঙ্ক মানুষের মধ্যে কমতে দেখা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে মানুষবেক। রাজশাহী মহানগরীর প্রতিটি জায়গায় এখন লোকের ভিড়। মুদি দোকান থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্টগুলোও এখন সরগরম। ভিড় দেখা যাচ্ছে নগরীর ছোট বড় প্রতিটি মোড়ে চায়ের দোকানগুলোতে। সামাজিক দুরত্ব না মেনে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠছেন বিভিন্ন বয়সী লোক।

রাস্তা নামলেই এখন দেখা যাচ্ছে অটোরিক্সা কিংবা বাস। অটোরিক্সা চালকরা এখন যাত্রী তোলার ক্ষেত্রে মানছেন না কোন নিয়ম। লকডাইনের সময় দুইজনের বেশি যাত্রী তুলতে পারতেন না। তবে এখন নেই সেই নিয়ম। অটো চালকরা ইচ্ছে মতো যাত্রী তুলছেন তাদের বাহনে।

বাজার গুলোতেও দেখা যাচ্ছে অনেক মানুষের সমাগম। নগরীর কাচাঁবাজার থেকে শুরু করে আরডিএ মার্কেটেও লেগে আছে ভিড়। কাঁচাবাজার গুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তেমনি নতুন পোশাক কিনতে অনেকেই ভিড় করছেন আরডিএ মার্কেটে। নিম্ন আয়ের মানুষগুলো ভিড় করছেন রাস্তার ফুটপাতের দোকানগুলোতে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নতুন পোশাক কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকেই। তেমনি ভিড় দেখা যাচ্ছেচ পদ্মার পাড়ে। সেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় জমাচ্ছেন বিনোদনপিপাসু মানুষ। আড্ডায় মেতে উঠতে দেখা যাচ্ছে তাদের। এখানেও নেই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বালাই।

রাজশাহীর করোনার সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, রাজশাহীকে এখন করোনার হট স্পটই বলা যায়। তবে এখানে আক্রান্তের চেয়ে মৃত্যুর হার তুলনামুলক কম। এখন আমরা মানুষকে সচেতন করার দিকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। গতকাল আমরা ২২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। মাস্ক না পরার জন্য সাড়ে সাত হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আমরা এভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, করোনা পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন আাক্রান্ত হচ্ছেন। করোনা থেকে বাচাঁর জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই। সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।

সোনালী/এসএসকে/আরআর

শর্টলিংকঃ