রাজশাহীতে অপহৃত ব্যক্তি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে অপহরণের শিকার এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পেশায় রঙমিস্ত্রি এই ব্যক্তিকে অপহরণের পর এক লাখ টাকা মুক্তিপণও চাওয়া হয়েছিল। রোববার দিবাগত রাতে রাজশাহী মহানগরীর দড়িখড়বোনা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম মহিউদ্দিন খান (২১)। তিনি নগরীর খড়খড়ি বাইপাসে একটি সিএনজি পাম্পে রঙমিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি যশোর জেলার অভয়নগর থানার ঘোড়া বটতলার মো. নাসির উদ্দিনের ছেলে। কাজের জন্য তিনি রাজশাহীতে আসেন। তাকে অপহরণের ঘটনায় রোববার তার সহকর্মী সোয়েব আলী অভিযোগ করেন নগরীর চন্দ্রিমা থানায়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণকারীদের খোঁজে ও উদ্ধারকাজে তৎপরতা চালায় পুলিশের একটি দল।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুম মনির জানান, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ও ছদ্মবেশ ধারণের মাধ্যমে রাত তিনটার সময় অভিযান চালানো হয়। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (নগর ভবন) সামনে একটি অপহরণকারী দলের নিকট হতে অক্ষত অবস্থায় যুবককে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। সেই সঙ্গে অপহরণকারী দলের মূলহোতা মো. শহিদুল ইসলামকে (২৭) হাতে-নাতে গ্রেপ্তার করা হয়। অপহরণকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জের রামকৃষ্ণপুর মোল্লাপাড়া এলাকার মৃত হোসেন আলী ছেলে।

তিনি আরও জানান, খড়খড়ি এলাকায় ঘটনাক্রমে ভিকটিম মহিউদ্দিনের সঙ্গে কোনো এক মাধ্যমে শহিদুলের পরিচিত হন। হঠাৎ গত রোববার চা খাওয়ার কথা বলে শহিদুল তাকে মোটরবাইকে তুলে নিয়ে যান। অপহরণকারী শহিদুলের পেছন পেছন ছোটে আরও দুটি বাইক। মহিউদ্দীনের দেরি হওয়ায় সহকর্মীরা উদ্বিগ্ন হন, ফোন করেন তার মুঠোফোনে। প্রথমে কোনো ফোনই ধরে না অপহৃত যুবক মহিউদ্দিন।

পরবর্তীতে মহিউদ্দিনের নম্বর থেকেই অপহরণকারীরা মুঠোফোনে জানায় মহিউদ্দীনকে অপহরণ করা হয়েছে। এক লাখ টাকা না দিলে প্রথমে তার হাত-পা ভেঙ্গে ফেলা হবে, অথবা তাকে হত্যা করা হবে। ঠিক একই কথা অপহৃত মহিউদ্দিনের বাবাকেও জানানো হয়। কোনো কুল কিনারা না পেয়ে রঙ মিস্ত্রি মহিউদ্দিনের সহকর্মীরা দ্বারস্থ হন পুলিশের কাছে। ঘটনার পুরো বৃত্তান্ত জানান তারা। এরপর অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ট্রাকিং এবং সেই সঙ্গে অভিনব কায়দায় ছদ্মবেশ ধারণের মাধ্যমে অক্ষত অবস্থায় অপহৃত যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, অপহরণ সংক্রান্ত বিষয়ে চন্দ্রিমা থানায় সোমবার একটি মামলা হয়েছে। অপহরণকারীকে আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ডেরও আবেদন করা হয়েছে। এছাড়াও জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ