রপ্তানির বাজার বাড়াতে হবে

  • 1
    Share

কয়েক বছর ধরেই বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছিল। মন্দার লক্ষণ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছিল। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির বিস্তার সেই লক্ষণগুলোকে আরো স্পষ্ট করেছে। অনেক উন্নত দেশেও মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি মাত্র ১.৬ শতাংশ হতে পারে। তার পরও বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি হবে বলে মনে করে সংস্থাটি। পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি হবে ০.৬ শতাংশ এবং ভারতের হবে মাইনাস ৯.৬ শতাংশ। সেই হিসাবে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি খুব একটা খারাপ নয়। অবশ্য বহু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকই বিশ্বব্যাংকের এই পূর্বাভাসকে অনেক বেশি রক্ষণাত্মক মনে করছেন।

বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮.২ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস সে তুলনায় অনেক কম। পূর্বাভাসের ব্যাখ্যায় বিশ্বব্যাংক বলেছে, করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তার ধাক্কাও বাংলাদেশে লাগবে। রপ্তানি কমে যাবে। শিল্প-কারখানায় উৎপাদন কমেছে ৭০ শতাংশের মতো। চাকরি হারিয়েছে বহু মানুষ, স্থবির হয়ে আছে কর্মসংস্থান। প্রবাসী আয়ও কমে যাবে। এসব কারণে জিডিপির প্রবৃদ্ধিও অনেকটাই কমে যাবে; কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে।

মার্চে যেখানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার, অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তা ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহও বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবাসীরা ৬৭১ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১৯ কোটি ডলার বা ৪৮.৫৪ শতাংশ বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৯৮৯ কোটি ডলারের বেশি, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৫৮ শতাংশ বেশি।

আর এখন রপ্তানির প্রতিবন্ধকতাগুলো যেমন কমছে, সুযোগ-সুবিধাও ক্রমেই বাড়ছে। তাই বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা কম। তার পরও কোনো আশঙ্কাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমাদের মূল রপ্তানি তৈরি পোশাক এবং তার প্রধান গন্তব্য কয়েকটি উন্নত দেশ। সেসব দেশ মন্দায় আক্রান্ত হলে তার প্রভাব আমাদের রপ্তানিতে পড়তেই পারে, যদি না আমরা আমাদের অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে পারি। রপ্তানিপণ্যের পাশাপাশি রপ্তানি বাজারের পরিধিও বাড়াতে হবে। ২০১৯ সালে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এডিবির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছিল, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিটে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

করোনা মহামারি সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতেও লাগাম টেনেছে। তা সত্ত্বেও আমরা আশা করি, সাময়িক এ সঙ্কট কাটিয়ে বাংলাদেশ আবারও উন্নয়নের স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে এবং ২০২৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে চলে যাবে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ