যে মাসে হতে পারে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

  • 15
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: আবেদন শেষে পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু করা হবে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে জানা গেছে।

এ বিষয়ে শনিবার ডিপিই’র সহকারী পরিচালক আতিক বিন সাত্তার বলেন, আগামীকাল (রোববার) থেকে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের অনলাইন আবেদন কার্যক্রম শুরু হবে। আবেদন শেষে পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা শুরু করা হতে পারে। চলতি অর্থবছরে (জুন মাসের মধ্যে) নিয়োগ পরীক্ষা শেষ করা হবে। এরপর ফলাফল প্রকাশের কাজ শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, আবেদনকারীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করে কত ধাপে পরীক্ষা নেয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আবেদনকারীর সংখ্যা কম হলে অল্পসময়ে নিয়োগ পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হবে। প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলে লিখিত পরীক্ষা শেষ করতে বেশি সময় লাগবে। তবে মোট শূন্য পদের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি প্রার্থী লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে।

এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে শূন্য আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এ সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে।

রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ এবং জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিইডিপি-৪ এর আওতায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য রাজস্বখাতে সৃষ্ট সহকারী শিক্ষক পদে জাতীয় স্কেলে ১৩তম গ্রেডে অস্থায়ীভঅবে এসব নিয়োগ দেয়া হবে। তবে তিন পার্বত্য জেলা- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার প্রার্থীরা এতে আবেদন করতে পারবেন না।

প্রার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করে জমা করার পর অ্যাপ্লিকেশন কপি প্রিন্ট করতে হবে। সঠিকভাবে পূরণকৃত অ্যাপ্লিকেশন কপির ইউজার আইডি দিয়ে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। একবার আবেদন ফি জমা দেয়ার পর অ্যাপ্লিকেশন ফরম কোনো অবস্থায়ই সংশোধন বা প্রত্যাহার করা যাবে না। শুধু ইউজার আইডিপ্রাপ্ত প্রার্থীরা এই সময় পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এসএমএসের মাধ্যমে ফি প্রদান করতে পারবেন।

আবেদনকারীকে একটি ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেয়া হবে। এই ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড সব সময়ের জন্য প্রার্থীকে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রার্থীকে পরীক্ষার ফি বাবদ অফেরতযোগ্য সার্ভিস চার্জসহ ১১০ টাকা যেকোনো টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে যথাসময়ে প্রেরণ করতে হবে।

বয়সসীমা: প্রার্থীদের বয়স ২০ অক্টোবর ২০২০ তারিখে সর্বনিম্ন ২১ বছর এবং ২৫ মার্চ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩০ বছর হতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে এ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। বয়স নিরূপণে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা সম্মান বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।

নির্বাচন পদ্ধতি: সহকারী শিক্ষক পদে এর আগে ৮০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা ও ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হতো। বাংলা, গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন থাকত। তবে এবারের নিয়োগে কত নম্বরের পরীক্ষা হবে এ বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসব পরীক্ষার তারিখ পরে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

যেসব কাগজপত্র লাগবে: প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আবেদনপত্রের সঙ্গে অনলাইনে দাখিলকৃত আবেদনের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কিত সব মূল বা সাময়িক সনদপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/পৌরসভার মেয়র/সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ