যমুনায় দ্বিতীয় রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ১৪ মার্চ

সোনালী ডেস্ক: যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন রেল সেতু নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সাম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৪ মার্চ। রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন গণমাধ্যমকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নিজে যমুনা নদীর পাড়ে গিয়ে অথবা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারেন । তবে এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। সকল কাজ শেষ হয়েছে। জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর কাজ করবে। এ সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আরও দুটি ট্রেন চালানোর কথা ভাবছেন বলেও জানান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।
তিনি বলেন, রাজশাহীর মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে রাজশাহী থেকে শিয়ালদা পর্যন্ত আমরা রেল যোগাযোগ চাচ্ছি, কিন্তু ভারত চাচ্ছে রাজশাহী থেকে হাওড়া পর্যন্ত। তবে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি শিয়ালদা পর্যন্ত।
এদিকে যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় রেল সেতু নির্মাণ হলে রাজশাহীসহ এ অঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা দীর্ঘ দিন ধরেই এই সেতুর জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। পর পর তিনবার তিনি এ নিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলেন। সর্বশেষ গত বছরের ২০ জুন তিনি এই রেল সেতু নির্মাণে সংসদে দাবি জানান। সেদিন বাদশা বলেন, আমি গত তিন বছর যাবৎ এই পার্লামেন্টে বলেছি, বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে আরেকটি পৃথক রেলসেতু করা হোক। এই রেলসেতু আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। এটা আমরা বাজেটে দেখি, কিন্তু বাস্তবে করা হয় না। পদ্মা সেতু হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সমাধান হবে। ঠিক একইভাবে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য পৃথক রেল সেতু ও দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু সেতু তৈরি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি দীর্ঘ দিন থেকে সংসদে এই দাবি জানিয়ে আসছি। এখন এ দাবি বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি।
গত বছরের ২০ এপ্রিল আমেরিকার ভার্জিনিয়ার ৫১৫৭ লি হাইওয়ে আর্লিংটনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা প্রবাসি বাংলাদেশিদের বলেছিলেন, যমুনা সেতুতে যেন দ্বিতীয় রেল সেতু হয় তার জন্য তিনি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সড়ক ও রেলপথের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর প্রথম ডিজাইনে রেললাইনের পরিকল্পনা ছিল না। বর্তমানে চালু থাকা রেললাইন আমরা জোর করে বসিয়েছি। কিন্তু বর্তমানে একটা রেললাইন পর্যাপ্ত নয়। উত্তরবঙ্গ থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ ট্রাক মাছ রাজধানী ঢাকায় যায়। আর অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে প্রায়ই যমুনা সেতুতে যানজট লেগে থাকায় এসব ট্রাক যথাসময়ে ঢাকায় পৌঁছাতে পারে না। এ কারণে প্রতিদিন অনেক টাকার মাছ নষ্ট হয়। তাই দ্বিতীয় রেলসেতু যেন হয় তার জন্য আমি চেষ্টা চালিয়ে যাব।
অবশেষে এই রেলসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নকশা প্রণয়নসহ যমুনা রেল সেতু নির্মাণে সাম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে এটি নির্মাণ করবে রেলপথ মন্ত্রণালয়। বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন রেলসেতু নির্মাণ করা হবে। এ জন্য পৃথক নদী শাসন করতে হবে না। জমি অধিগ্রহণও খুব বেশি দরকার হবে না। এতে ব্যয় অনেক কম হবে। যমুনা রেলসতুর উভয় দিকে ভায়াডাক্ট থাকবে ৫৮০ মিটার। যমুনা ইকোপার্কের পাশ দিয়ে এটি বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম অংশের রেলপথের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এজন্য ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি তিনটি স্টেশন বিল্ডিং, তিনটি পস্ন্যাটফর্ম, তিনটি লেভেল ক্রসিং গেট ও ছয়টি কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে। আর এই সেতুর পূর্ব পাশের লুপ লাইনসহ প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার, ১৪টি কালভার্ট ও দু’টি সংযোগ স্টেশন নির্মাণ করতে হবে।
এদিকে এই রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সাম্ভাব্য দিনক্ষণ ঠিক হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সদরের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। প্রকল্পের অগ্রগতি হওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনকেও। ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমি সারা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বলি। তবে সবচেয়ে বেশি উত্তরবঙ্গের কথাগুলো বলি। আমাদের বৈষম্যের কথাগুলো তুলে ধরি। আমরা কেন বঞ্চিত হচ্ছি, কেন এই অঞ্চলকে গুরুত্ব কম দেওয়া হয়, এসব নিয়ে কথা বলি। উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের জন্য যমুনা নদীতে আলাদা রেল সেতু স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। অবশেষে এটি হচ্ছে দেখে ভাল লাগছে। প্রকল্পটি গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় আমি রেলমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

শর্টলিংকঃ