ম্যারাডোনার পক্ষে মামলা হয়েছিল বাংলাদেশের আদালতে

অনলাইন ডেস্ক:  ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। অনেকের মতে, বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা সমর্থনের জোয়ারের অন্যতম নায়ক ম্যারাডোনা। তাকে ভালোবেসেই নীল-সাদা জার্সির দলকে হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন বাংলাদেশিরা। অনেকে আবার একটু বেশি আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, ম্যারাডোনার জন্ম না হলে বাংলাদেশে ফুটবল নিয়ে এত উন্মাদনার সৃষ্টি হতো না।

এসব বক্তব্যের পেছনে অবশ্য যুক্তিও রয়েছে। কেননা বাংলাদেশে আশির আর নব্বইয়ের দশকে মধ্যম আর স্বল্প আয়ের মানুষদের টেলিভিশন সেট কেনার একটি বড় উপলক্ষ ছিল বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা। সেই সময় শুধু ম্যারাডোনার খেলা দেখবে বলে টিভি কিনত বা এক মাসের জন্য ভাড়া নিত অনেকে।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ফুটবল উন্মাদনা শুরু হয় ১৯৮৬ সালে। সেবার বাংলাদেশের টেলিভিশনে মেক্সিকো বিশ্বকাপ সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছিল। ওই বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার অসামান্য নৈপুণ্যে বিশ্বকাপ জয় করে নেয় আর্জেন্টিনা। আর এতে আর্জেন্টিনা থেকে হাজার-হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশে অগণিত ভক্ত তৈরি হয় ম্যারাডোনার।

ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের অলিতে-গলিতে, পাড়া-মহল্লায় যে উচ্ছ্বাস-উত্তেজনা সেটার বীজ বুনেছিলেন এই জাদুকরী ফুটবলারই।

এমন কথার সঙ্গে একমত সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক দিলু খন্দকারের। তার মতে, ৯৪ সালের বিশ্বকাপে বোঝা গিয়েছিল বাংলাদেশিদের হৃদয়ে কতোটা দখল রয়েছে ম্যারাডোনার। ১৯৯৪ সালে আমেরিকার বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার খেলা মাঠে বসে দেখার সুযোগ হয়েছিল এই সাংবাদিকের। সে বছর বিশ্বকাপের মাঝ পথেই ডোপিংয়ের অভিযোগে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল দিয়াগোকে। সে সময় কেঁদে চোখ ভাসিয়েছিল বাংলাদেশের কোটি ভক্ত।

গণমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে দিলু খন্দকার জানান, ফিফার এমন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছিল বাংলাদেশে। মামলা হয়েছিল বাংলাদেশের আদালতে। বিশ্ব মিডিয়ায় জায়গা পেয়েছিল বাংলাদেশের এই ফুটবল উন্মাদনার খবর।

তিনি বলেন, আশির দশকের আগে বাংলাদেশে ব্রাজিলের সমর্থক বেশি থাকলেও ম্যারাডোনা মাঠে নামার পর থেকেই চিত্র বদলে যায়। বাংলাদেশের মানুষের মনে ফুটবল প্রেম জাগিয়ে তুলেছেন ম্যারাডোনা। তিনি এমন অসাধারণ ফুটবল খেলেছেন যে মানুষকে জাদুর মতো নিজের কাছে টেনে নিয়েছেন।

ক্রীড়া সাংবাদিক দিলু খন্দকারের মতোই মতামত দিলেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ডালিয়া আক্তার। ম্যারাডোনার খেলাগুলো টেলিভিশনে সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছিল তার। তিনি জানান, ম্যারাডোনার দুর্দান্ত সব পারফরম্যান্স দেখেই ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন তিনি।

বিবিসি বাংলাকে ডালিয়া আক্তার বলেন, ছোটবেলায় ম্যারাডোনার খেলা দেখেই আমার ফুটবল প্রীতি জেগেছে। উনি আমার আইডল। একটা হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ ম্যারাডোনা তার একার পারদর্শিতায় জিতিয়ে দিতে পারতেন। তার ক্রীড়াশৈলী আমার মতো অনেক ফুটবলারকেই উদ্বুদ্ধ করেছে।

বাংলাদেশিদের কাছে ম্যারাডোনা কেন এত অনন্য সেই প্রশ্নে ডালিয়া বলেন, অনেক খেলোয়াড় ড্রিবলিং ভালো করলেও শেষমেশ স্কোরটা করতে পারেন না। কিন্তু ম্যারাডোনা ড্রিবলিং থেকে শুরু করে গোল করা পর্যন্ত ফিনিশিং পুরো বিষয়টাতে পারদর্শী ছিলেন। এটি সব খেলোয়াড়ের থাকে না। সে জন্যই তিনি বাংলাদেশিদের কাছে এতো অনন্য ছিলেন।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ