মোস্তাফিজের স্ত্রীর আহাজারি, ‘আমার শিশুর এখন কী হবে!’

মিজান মাহী, দুর্গাপুর: ‘আড়াই বছর হলো বিয়ে হয়েছে। অনেক কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করেছি। তার একটা চাকরি জুটলো, কোলের শিশু মুসাকে নিয়ে সুখের দিনগুলো দেখতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু এই ছোট কপালে আমার সুখ সইলো না।’

স্বামী হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর সাভারে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী খাদিজা আক্তার। হঠাৎ স্বামীকে হারিয়ে ও ছেলে মুসার ভবিষ্যত নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খাদিজা।

তিনি বলেন, ‘এখন নিজের জীবন-যাপন ও এক বছরের বাচ্চাকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমার মুসাকে নিয়ে কোথায় যাব, কী করব।’

খাদিজা আক্তার বলেন, ‘আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ কি হবে, আমি জানি না। মোস্তাফিজের অনেক ইচ্ছা ছিল, ছেলেকে অর্থকষ্ট ছাড়া মানুষ করবে। আমার একটাই চাওয়া, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসি কার্যকর করা হোক।’

মুস্তাফিজের মা ফিরোজা বেগম বলেন, যারা আমার ছেলেকে মেরেছে, তাদের ফাঁসি চাই। বাবা মোজাহার আলী বলেন, আমি খুব গরিব মানুষ। তেমন কোনো আবাদি জমি নেই, অন্যের জমিতে কাজ করে কোনোরকম সংসার চলতো। নিজের বয়স অনেক হয়েছে, কাজ করতে পারি না। ছেলেটা অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া শেষ করে সংসারের হাল ধরেছিল। সংসারে আয় করার কেউ থাকলো না। ছেলের বউ আর ছোট বাচ্চাটার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছি আমরা।

নিম্ন আয়ের পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২০১৯ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। লেখাপড়া শেষ করে সাভারের গ্লোরিয়াস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশাসনিক ও হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করতেন তিনি। দরিদ্র পরিবারে মোস্তাফিজুরই ছিলেন একমাত্র ভরসা। তাকে হারিয়ে টালমাটাল হয়ে পড়েছে পরিবার।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর সাভারে বাস থেকে নামার পর ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন মোস্তাফিজ। ছিনতাইকারীরা উপর্যুপরি ছুরি মেরে তাকে হত্যা করে রেখে যায়। সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

ওইদিন রাতে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের বাড়িতে মোস্তাফিজুরের লাশ আনা হয়। পরেরদিন সকালে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। এদিকে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সোমবার রাতে দুই খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ