মেয়েকে বিয়ে না করায় রাবি স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: মেয়েকে বিয়ে না করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের প্রভাষক দুরুল হুদাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (১৯ ফেব্রæয়ারি) সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওই স্কুলের অধ্যক্ষ শফিউল আলম ও তার স্ত্রীর রাবি ছাত্র উপদেষ্টা লায়লা আরজুমান বানু’র বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন দুরুল হুদা।
এর আগে অধ্যক্ষের ষষ্ঠ শ্রেণি পড়–য়া মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতে এসে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হন দুরুল হুদা। বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন।
নগরীর আলুপট্টি মোড়ে একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুরুল হুদা লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি স্কুলে যোগদানের কিছুদিন পর অধ্যক্ষ শফিউল আলম তার ছোট মেয়েকে পড়াতে বলেন। তিনি অপারগতা প্রকাশ করার সত্তে¡ও অধ্যক্ষকের স্ত্রী অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু ফের ফোন করে পড়াতে বললে তিনি রাজি হন। কিন্তু কিছু দিনপর অধ্যক্ষ দুরুল হুদাকে নিজের বড় মেয়ে জন্য বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তাতে রাজি না হয়ে অন্যত্র বিয়ে করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এরপর থেকে স্কুলের অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রী লায়লা আরজুমান বানু তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। সর্বশেষ অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রী তাদের ছোটমেয়ের শ্লীলতাহানির নাটক সাজিয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রভাষক দুরুল হুদা বলেন, গত ১২ থেকে ১৭ অক্টোবর আমার ট্রেনিং চলছিল। ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যে সাড়ে ৭টায় অধ্যক্ষের স্ত্রী ফোন করে মেয়ের বিজ্ঞানের একটা অধ্যায়ে সমস্যা আছে বলে আমাকে তার বাসায় ডাকেন। পড়ানো শেষে আমি চলে আসি। রাত পৌনে ১০টার দিকে অধ্যক্ষ নিজে ফোন করে আমাকে তার বাসায় আসতে বলেন। আমি তার বাসায় গেলে অধ্যক্ষ আমাকে স্কুলের চাকরি ছাড়তে বলেন। আমি কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তুমি আজ পড়াতে এসে আমার মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছ। আমার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তোমাকে সাতদিন সময় দেয়া হল এর মধ্যে তুমি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে গ্রামে গিয়ে হালচাষ করো। বিষয়টি আমি স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অবহিত করি।
অবহিতকরণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ও রাবি স্কুলের সভাপতি আবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, বিষয়টি আমাকে অবহিত করেছে। তবে কোনদিন অবহিত করেছে কাগজপত্র দেখা ছাড়া বলতে পারবো না, আমি এখন বাইরে আছি।
দুরুল হুদা আরও বলেন, আমাকে গ্রেপ্তারের পর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেন ওই স্কুলের শিক্ষক জান্নাতুন নাহার, ফারজানা মুনিরা আক্তার কেয়া ও হরেন্দ্রনাথ রায়। তারা অশালীন আচরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির দাবি করায় অধ্যক্ষ তাদেরকেও দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এই হুমকির বিষয়টি স্বীকার করে স্কুলের ওই তিন শিক্ষক বলেন, আমরা মিডিয়াতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করার পর অধ্যক্ষ স্যার ৩ নভেম্বর সকালে মিটিং ডেকে সবার সামনে তিনি আমাদের ঘৃণা করেন বলে জানান । তার কয়েকজন আস্থাভাজন শিক্ষক আমাদের সঙ্গে খুবই উচ্চবাচ্য করেন ও মারতে উদ্যত হন। আমরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কাজ করছি অভিযোগ করে কীভাবে চাকরি করি সেটা দেখে নেয়ার হুমকি দেন অধ্যক্ষ স্যার। পরে আমরা বাধ্য হয়ে মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।
দুরুল হুদা অভিযোগ করেন, ঘটনার তিন দিন পর ১৯ অক্টোবর রাবির সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস ফোন করে স্কুলের অধ্যক্ষের কক্ষে আমাকে আসতে বলেন। সেখানে গেলে অধ্যক্ষ স্যার, তার স্ত্রী এবং অধ্যাপক জান্নাতুল আমার সঙ্গে অশালীন কথা বলেন এবং চাকরি ছাড়ার জন্য পুনরায় হুমকি দেন। জানতে চাইলে অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ওইদিন ঘটনা শোনার জন্য দুরুল হুদাকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু তিনি আসেননি।
সংবাদ সম্মেলনে দুরুল হুদা তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু ডকুমেন্ট ও অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করেন। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানান তিনি।
এসব অভিযোগের বিষয় জানতে স্কুলের অধ্যক্ষ শফিউল আলমকে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে তিনি ছুটিতে আছেন। অধ্যক্ষের স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট। ২০১৮ সালে আমার মেয়ের বয়স ১৮ই হয়নি। সে সময় আমার মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলাম কীভাবে? তারপর সে অন্যত্র বিয়ে করে ফের আমার ছোটমেয়েকে পড়াতে আসলো? এগুলো সব বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।

শর্টলিংকঃ