মেয়র হলে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদারের অঙ্গীকার

স্টাফ রিপোর্টার: ভারত থেকে দেশে সবচেয়ে বেশি হেরোইন ঢোকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্ত দিয়ে। আর সবচেয়ে বড় বড় মাদক কারবারিদের বসবাস গোদাগাড়ী পৌর এলাকায়। সেই পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদারের অঙ্গীকার করছেন একজন নেতা।

তার নাম আকবার আলী। তিনি একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। পৌর যুবলীগের সভাপতিও তিনি। তবে তার চেয়েও বড় পরিচয় তিনি একজন ক্রীড়ামোদী ব্যক্তি। ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ হিসেবেই গোদাগাড়ীর মানুষ তাকে বেশি চেনে। তিনি যত খেলাধুলার আয়োজন করেন তার সবখানেই চলে মাদকবিরোধী প্রচারণা। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। মেয়র হলে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদারের অঙ্গীকার নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে প্রচারণায় নেমেছেন। ভাল সাড়াও পাচ্ছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচিত হলেও এখন দলের বড় অংশের সঙ্গেই তার সম্পর্ক নেই। পৌর এলাকায় উন্নয়নের চেয়ে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিভেদ তৈরিতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন তিনি। তার আগের মেয়র ছিলেন জামায়াত নেতা। আর রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। তিনিও ভূমিকা রাখতে পারেননি উন্নয়নে। তারও আগের মেয়র ছিলেন বিএনপির নেতা। তার আমলে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও উন্নয়নের চেয়ে দুর্নীতিই হয়েছে বেশি। এখন অধ্যাপক আকবরের উন্নয়ন আর মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার মন ছুঁয়েছে পৌরবাসীর। তিনি মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে শঙ্কা নেই তাদের।

ভোটাররা বলছেন, অধ্যাপক আকবর আলীর বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। দুই মেয়াদে তিনি যুবলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ১২ বছর দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। অথচ তাকে নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। বিপদে-আপদে মানুষের পাশে থাকেন। যেখানেই খেলাধুলার আয়োজন করেন সেখানেই থাকে মাদকবিরোধী প্রচারণা। একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবেই অধ্যাপক আকব আলী পরিচিত। তিনি প্রার্থী হলে মেয়র নির্বাচিত হবেন। আর মেয়র হলে উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া প্রাথম শ্রেণির এই পৌরসভার উন্নয়নও হবে।

কারণ, তিনি যেখানেই হাত দেন সেখানেই আসে সফলতা। অধ্যাপক আকবর আলীর গড়ে তোলা গোদাগাড়ী আবাহনী ফুটবল একাডেমির ১১ জন সদস্য ক্লিয়ার ম্যান অনুর্ধ্ব-১৬ জাতীয় স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করেছে। চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হয়ে ব্রাজিলে অনুশীলন করে আসা কিশোর ফুটবলার জোগেন লাকড়া আকবরেরই শিষ্য।

স্থানীয়রা আরও জানান, করোনাকালে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন অধ্যাপক আকবর আলী। অসচ্ছল পরিবারকে দিয়েছেন মানবিক সহায়তা। গোরস্থান কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়ে ভূমিকা রাখছেন উন্নয়নে। তিনি মেয়র পদে মনোনয়ন চাইছেন শুনে এলাকাবাসীই খুশি। তারা মনে করছেন, তরুণ এই নেতার হাত ধরে পাল্টে যাবে গোদাগাড়ী।

অধ্যাপক আকবর আলী বলেন, নানা কারণে পর পর তিন মেয়রের আমলে গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় কোন উন্নয়ন হয়নি। অথচ এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। তাই আমি এলাকার কথা চিন্তা করে প্রার্থী হতে চাচ্ছি। বাকিটা দলের ওপর নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, এলাকার বিরাট বড় সমস্যা মাদক। অনেকেই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে। কোথাও গিয়ে গোদাগাড়ীর পরিচয় দিতেও লজ্জা লাগে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। যদি মেয়র নির্বাচিত হতে পারি তাহলে আমি আমার সবটুকু দিয়ে মাদক থেকে মানুষকে ফেরাতে কাজ করব। এলাকায় এখনও ভাল মানুষ আছেন। তারা আমাকে সহায়তা করবেন।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ