মৃত্যুদÐ পেয়েও আদালত চত্বরে জঙ্গিদের সেøাগান

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর আদালতে মৃত্যুদÐ পেয়েও এজলাস কক্ষ থেকে বের হয়েই হাতের আঙুল উঁচিয়ে উগ্রো সেøাগান দিয়েছে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা রাজীব গান্ধীসহ দুই জঙ্গি। এ সময় তারা পুলিশবেষ্টিত ছিল।
তারা পুলিশের প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময়ও চিৎকার করেছে। পুলিশের শিথিলতার কারণেই জঙ্গিরা আদালত চত্বরেও বার বার এরকম ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
গতকাল রোববার পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের পুরোহিত অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর হত্যা মামলার রায় ঘোষণার আগে রাজশাহীর দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনাল চত্বর ঘিরে রাখে পুলিশ। বেলা ১১টার আগেই একটি প্রিজন ভ্যানে করে দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালের সামনে আনা হয় পুরোহিত হত্যা মামলার অন্যতম আসামি জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব গান্ধী, রমজান আলী, আলমগীর, হারেজ আলী ও খলিলুর রহমানকে।
প্রিজন ভ্যান থেকে নেমেই সেøাগান দেয় জঙ্গি রাজীব। প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়েই সরাসরি নেয়া হয় এজলাসে। আসামিদের স্যান্ডেল খুলে রেখে কাঠগড়ায় উঠতে বলে পুলিশ। কিন্তু জঙ্গি রাজীব গান্ধী কাঠগড়ায় ওঠার সময় নিজের পায়ের স্যান্ডেল খুলতে আপত্তি জানায়। পরে তাকে স্যান্ডেল খুলতে বাধ্য করে পুলিশ।
বেলা ১১টার পর পরই দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শীর্ষ জঙ্গি নেতা জাহাঙ্গীর ওরফে রাজিব গান্ধীসহ চারজনের ফাঁসির আদেশ হয়। রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে পুলিশের সামনেই ঔদ্ধত্যস্বরে চিৎকার করে রাজীব গান্ধী ও তার এক সহযোগী।
এদিকে, আদালত চত্বরে রায় ঘোষণার আগে ও পরে হলি আর্টিজান হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড রাজিব গান্ধী ও তার এক সহযোগী বার বার ¯েøাগান দেয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সুশাসন বিষয়ক পর্যবেক্ষক সুব্রত কুমার পাল।
তিনি বলছেন, এরআগেও ঢাকায় আদালতে রায় ঘোষণার পর আইএসের টুপি পরে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিল জঙ্গিরা। অথচ পুলিশের কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও একই ধরনের ঘটনা ঘটলো রাজশাহীর আদালত প্রাঙ্গণে। পুলিশের শৈথিল্যতার কারণেই জঙ্গিরা এমন বেপরোয়াপনা দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশকে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব গান্ধী হলি আর্টিজান হামলার মাস্টারমাইন্ড। সারাদেশে যত জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে তার অধিকাংশতেই জড়িত রাজীব। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র অন্যতম শীর্ষ নেতা। এজন্য রায় ঘোষণার আগেই আদালত চত্বর জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এখানে পুলিশের কোনো শিথিলতা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
মৃত্যুদÐপ্রাপ্তরা আসামিরা হলো-জাহাঙ্গীর ওরফে রাজিব গান্ধী, রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাঁধন, আলমগীর হোসেন ও রমজান আলী। জেএমবির রংপুর অঞ্চলের প্রধান ছিলেন রাজিব গান্ধী। আইএসের সাথে তার সরাসরি যোগাযোগও ছিল।
রাজিবের পরিকল্পনাতেই পুরোহিত যজ্ঞেশ্বরকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু। তিনি বলেন, রাজীব গান্ধী ভয়ঙ্কর জঙ্গি। সে সিরিয়া গিয়ে যুদ্ধ করে এসেছে। তার পরিকল্পনা অনুয়ায়ীই যজ্ঞেশ্বরকে হত্যা করা হয়।

শর্টলিংকঃ