মীম-মৌ হত্যাকাণ্ড: খুলছে জট, নানা প্রশ্ন

  • 6
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: রংপুর মহানগরীর মধ্যগনেশপুর এলাকায় পাশাপাশি রুমে দুই বোনের চাঞ্চল্যকর ‘হত্যাকাণ্ডের’ ঘটনায় জট খুলতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ২০ জনের অধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে নিহত সোমাইয়া আক্তার মীমের প্রেমিক মাহফুজকে। তবে আটকের বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

এদিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা করেছে সোমাইয়া আক্তার মীমের বাবা মোকছেদ আলী। মামলার অগ্রগতি নিয়ে রোববার পুলিশের পক্ষ থেকে একটি প্রেস কনফারেন্স করার কথা রয়েছে।

স্বজনরা জানিয়েছেন, নিহত সোমাইয়া আক্তার মীমের ঘরের দরজা বন্ধ থাকলেও খোলা ছিলো জান্নাতুল মাওয়া মৌ এর ঘরের দরজা। তিনটি মোবাইল সিমের মধ্যে একটি ভাঙা ছিলো, অন্য দুটি ছিলো স্বাভাবিক ও একটি ঘুমের ট্যাবলেটের ফাঁকা পাতা পাওয়া গেছে।

একই সঙ্গে মীম যে ঘরে ঝুঁলিয়ে ছিলো সেই ঘরের সিলিং ফ্যানটির একটি পাখা কেউ হাত দিয়ে ভাঁজ করার চেষ্টা করেছে। মীমের চাচাতো বোন জান্নাতুল মাওয়ার গলায় আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

জান্নাতুল মাওয়ার ঘর থেকে একডি ডায়েরি পাওয়া গেলেও তাকে তার মায়ের বিষয় ছাড়া অন্য কোন লেখা ছিলো না। তাই এটি নিছক কোন আত্মহত্যা নয় বলে মনে করেন প্রতিবেশী এবং স্বজনরা।

তারা মনে করছেন, এই দুবোনকে কোন দুষ্কৃতিকারী হত্যা করে নানা কৌশল অবলম্বন করে পালিয়েছে।

মীমের বাবা মোকছেদ আলী পুলিশকে জানিয়েছেন, তার মেয়ের সঙ্গে পশ্চিম বাবুখা এলাকার মাহফুজ এর প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তিনি সেটা পুলিশকে জানিয়েছেন।

নিহতদের পরিবার মনে করছে, আগে জান্নাতুল মাওয়াকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর সোমাইয়াকে হত্যা করা হয়।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সকালেও পুলিশ ও সিআইডির পৃথক গোয়েন্দারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চাঞ্চল্যকর দুই বোন হত্যার ঘটনায় মামলার জট খুলতে তারা অনেক তথ্য পেয়েছেন। অনেক দূর এগিয়েছেনও তারা। আশা করছেন দ্রুত এ বিষয়ে স্পষ্ট হতে পারবেন।

শনিবার বিকালে নিহত সোমাইয়া আক্তার মীম (১৬) ও জান্নাতুল মাওয়া মৌ এর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে পুলিশ। সন্ধায় জানাজা শেষে স্থানীয় মুন্সিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা করা হয়।

একই পরিবারে দুই বোনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারটিতে চলছে শোকের মতম। একমাত্র মেয়ে মীমমে হারিয়ে বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন স্বজনরা।

মৌ ও মীমের দাদি জরিনা বেগম (৬০) জানান, তার বড় ছেলের মেয়ে জীম প্রতিদিন খেলতে আসতো জান্নাতুল মাওয়ার কাছে। শনিবারও সে এসছে। মৌকে ডাকতে ডাকতে সে তার ঘরের দিকে যায়। কাঠের দরজায় হাত দিতেই দরজা খুলে যায়। দরজা খুলতেই দেখে মৌ মেঝেতে শুয়ে আছে। সে ভয়ে চিৎকার করে তার আরেক চাচিকে (শোভনের মা) ডাকে। চাচি গিয়ে দেখে একই অবস্থা। পরে শোভনের মা মীমের মাকে ডাকলে তিনি এসে দেখেন দুই বোন দুই রুমে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়।

দাদি জরিনা বেগম আরো জানান, জান্নাতুল মাওয়ার ঘরের দরজা খোলা থাকলেও সোমাইয়া আক্তার মীমের দরজা সিটকিনি লাগানো ছিলো।

মীমের বাবা মোকছেদ আলী বলেন, পুলিশ আমাদেরকে সবাইকে থানায় ডেকেছে। আমরা থানায় গিয়ে যা জানি তাই বলেছি।

তিনি বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে মাহফুজ নামের এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো তাও বলেছি। মাহফুজের বাড়ি পশ্চিম বাবুখায়। তাকেও থানায় আমি দেখেছি। হয়তো পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

মোকছেদ আলী দাবি করছেন, আমার মেয়েকে তো হারিয়েছি, আর ফিরে আসবে না। আর যেন কোন বাবা বা মায়ের এভাবে বুক খালি না হয় সেজন্য আমি অপরাধিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, মামলার অগ্রগতি হয়েছে। প্রেস কনফারেন্স করে বিস্তারিত জানানো হবে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ