মিশরের ফারাওদের কিছু কথা

  • 2
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার যুগে নিষ্ঠুর এক শব্দ ‘ফারাও’। যাদের বিভিন্ন পৈশাচিক কর্মকাণ্ড মানব সভ্যতার ইতিহাসকে কলুসিত করেছে। প্রায় তিন হাজার বছর ধরে এই সভ্যতা প্রচলিত ছিল।

ফারাওদের সীমাহীন ক্ষমতা, প্রচুর বিত্ত, অবিশ্বাস্য পদমর্যাদা যা যেকোন ব্যক্তিকে অনেক সহজেই অন্ধকার দিকে ধাবিত করতে পারতো। রাজবংশের পর রাজবংশ এক পাপে ভরা দুরিয়া তৈরি করেছিল।

পৃথিবীর বুকে একেক জন ফারাও ছিলো যেন একেক জন অত্যাচারী শাসক, অহংকারী ব্যক্তিত্ব এবং বিকৃতরুচি সম্পন্ন যৌনাচারীর প্রকৃত উদাহরণ! ফারাওরা নিজেদের খোদা দাবি করত। যদিও তাদের মধ্যে কামনা, লালসা, লোভ ইত্যাদি পরিপূর্ণ ছিল।

প্রাচীন মিশরে একজন অত্যাচারি ফারাও ছিলেন দ্বিতীয় পেপি, যিনি তার প্রজাদের সবসময় অত্যাচার এবং অসম্মান করতেন। তার নাম ছিলো নেফারকারি। তিনি ফারাও ছিলেন রাতন রাজত্বের শেষের দিকে। প্রাচীন মিশরের স্বর্ণযুগ ছিলো তখন। মিশরের ইতিহাসে দ্বিতীয় পেপি সব থেকে লম্বা সময় ধরে ফারাও ছিলেন। তার রাজত্বের সময়কাল ছিল ৯৪ বছর।

ফারাও নেফারকারি সবসময় শুধু নিজের কথা ভাবতেন। অন্যের কথা কখনো ভাবতেন না। কে কি ভাবছে মোটেও তিনি গুরুত্ব দিতেন না। তবে প্রাচীন মিশরে আরও একজন শাসক ছিলেন, যিনি খুঁতখুঁতে স্বভাবের ছিলেন নিজের ভাবমূর্তি নিয়ে। তিনি প্রজাদের সামনে মিথ্যা কথা বলতেও দ্বিধা করতেন না। তার নাম ছিলো ফারাও দ্বিতীয় রামেসিস। তার রাজত্বকাল ছিলো ৩৪ বছর। মিশরের ঊনবিংশতম রাজবংশের তৃতীয় ফারাও ছিলেন তিনি। তার রাজত্বকালে অনেক যুদ্ধ জিতেছেন এবং অনেক নগর, মন্দির ও সৌধ নির্মাণ করেছেন তিনি। নিজের বিশাল বিশাল সব প্রতিমূর্তিও নির্মাণ করেছিলেন।

তিনি একজন নির্লজ্জ আত্মপ্রচারকও ছিলেন। তবে তিনি নিজেকে সবসময় প্রতিষ্ঠিত, মহান, শক্তিশালী যোদ্ধা এবং রাজত্বের রক্ষাকর্তা ভাবতেন এই ফারাও। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আবু সিম্বেল নামের একটি মন্দির। যার প্রবেশ পথে ছিলো দুটি দ্বার ছিলো। উভয় পাশেই তার প্রতিমূর্তি ছিল। দ্বার দুটির উচ্চতা ছিলো ৩০ মিটার।

প্রাচীন ইতিহাস থেকে আরো একজন ফারাওয়ের কথা জানা যায়, যার অদ্ভুত ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সমগ্র মিশরীয় সাম্রাজ্যে একসময় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছিল। যিনি আখেনাতেন (আটেন এর উপাসক) নামেই বেশি পরিচিত।

তিনি নতুন রাজত্বের অষ্টাদশ রাজবংশের একজন ফারাও ছিলেন। তার রাজত্বকাল ছিলো ১৭ বছর। আনুমানিক ১৩৩৪ বা ১৩৩৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি মারা যান। তিনি তার দর্পের কারণে মিশরের ২০০০ বছরের ঐতিহ্য ভেঙে ফেলেছিলেন।

আখেনাতেনের শাসনকালের পূর্বপর্যন্ত বেশ সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল মিশরের ধর্ম ও সংস্কৃতি। নিজেকে ক্ষমতাবান এবং ঐশ্বরিক মনে করা এই শাসকের পক্ষে রাতারাতি সমাজ, ধর্ম পরিবর্তন করা অসম্ভব ছিলো না। তিনি পুরাতন রাজধানী থিবেস থেকে একদম নতুন এক স্থান আমারনায় রাজধানী স্থাপন করেছিলেন, যার নাম দিয়েছিলেন আখেতাতেন। নতুন এই রাজধানী পুরাতনটি থেকে ২৫০ মাইল বা ৪০০ কিলোমিটার উত্তরে স্থাপন করা হয়েছিল।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ